‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এর টিজারেই মুগ্ধ ভক্তকূল

1027

২৮ মে স্টারের টিভির সবকটি চ্যানেলে ৭টা ৫৮ মিনিটে দেখানো হয়েছে সলমন খানের সিনেমা “বাজরাঙ্গি ভাইজানের” ট্রেলার। এক মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ট্রেলার দেখেই বুঁদ “ভাইজানের” ভক্তকূল। এই সুযোগে শহরের কোনও এক কলেজের সামনের মোড়ে দুই বন্ধুর কথোপকথন শুনে ফেলল Campus

প্রথম বন্ধু: ইউটিউবে বাজরাঙ্গি ভাইজানের ট্রেলারটা দেখলি। ভাই হো তো অ্যায়সা। শাব্বাস। বিদেশি( যদিও পাকিস্তানি) বাচ্ছা মেয়েটাকে ভাই যেভাবে নিজের বাড়িতে পৌঁছে দেবে দেখাচ্ছে না, পুরো মামা। হল ফেটে যাবেই যাবে। আমি তো হোয়াটস অ্যাপে একটা দারুন মেসেজ পেলাম, ওই বিদেশি বাচ্ছা মেয়েটা নাকি ক্যাটরিনা, হা হা হা!!

দ্বিতীয় বন্ধু: আর সলমনের গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ খুন করার কেসটা?

প্রথম: দুর, সলমন কি ইচ্ছা করে মেরেছে নাকি? আরে পেটে এট্টু আধটু দারু পড়লে গাড়ি চালাতে একটু ধুনকি লাগে চোখে, আমার তোরও লাগে। তা নিয়ে এত হ্যাঙ্গামের কী আছে রে বাবা? আর শোন, এদেশে এট্টু-আধটু ওরকম স্ক্যান্ডাল হয়েই থাকে মেগাস্টারদের।

দ্বিতীয়: তোর কথা শুনে তো অভিজিৎ মনে হচ্ছে।

প্রথম: সিনেমার গল্পটা জানিস তো, কীরকম ঝাক্কাস? বিদেশি মেয়েটা বর্ডার পেরিয়ে এ দেশে চলে এসেছে। কথাবার্তাও সেরকম গুছিয়ে বলতে পারে না। ভাই তখন মেয়েটাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া দায়িত্ব নেবে। ভাইজান নিজে বজরঙ্গবলির ফ্যান। মিথ্যা বলে না।

দ্বিতীয়: কিন্তু সলমনের আইনজীবীই তো সবথেকে বেশি মিথ্যা বলে দেশজুড়ে খোরাক হয়ে উঠেছে।

প্রথম: আরে আঁতেলদের মতো কথা বলিস না তো। জেনে রাখ, এই সিনেমার জন্য এই প্রথমবার নাকাশ আজিজ সলমনের গলায় গলান গাইবে। ভাইজান অবশ্য কারুর ভরসায় নেই। নিজেও নাকি তিন তিনটে গান গেয়েছে এই সিনেমার জন্য।

দ্বিতীয়: বডিগার্ডে সলমনের নায়িকা ছিল করিনা কাপুর, যে এই সিনেমাতেও নায়িকার চরিত্রে রয়েছে। কিন্তু বডিগার্ড দেখে তো লোকজন মাথামুন্ডু বুঝতে পারেনি। এই প্রতিবার ঈদে একটা করে বকওয়াস মুভিকে নেহাৎ মার্কেটিংয়ের জোরে উৎরিয়ে দেওয়াটা দর্শকদের প্রতি অবিচার নয়?

প্রথম: মনে হচ্ছে তুই আজকাল ওই বেলাশেষে টাইপের মুভি বেশি দেখছিস। শোন বাবা, ঘণ্টা দুই-আড়াই হলে বসে মনটাকে নিয়ে যেতে হবে এই পোড়া রাজ্যের বাইরে, এক্কেবারে কল্পনার তূরিয়তে। সেখানে একটুআধটু এসব হতেই পারে। আর একা ভাইজান কেন, তোদের শাহরুখ বুঝি দিওয়ালি এলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে না? খাজা সিনেমাগুলি জমিয়ে রেখে দেয় না দিওয়ালিতে রিলিজ করাবে বলে? 11393274_406032152918357_7232715788823581521_n

দ্বিতীয়: তুই তো একেবারে দিদির মতো বলছিস,মনের মতো কথা না হলেই আমাকে অন্য দলে ঠেলে দিলি। আমি মোটেও শাহরুখের ফ্যান নই। বরং এই সিনেমায় নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি রয়েছে পাক রাজনেতার চরিত্রে, তাঁর অভিনয় দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।

প্রথম: আরে দুর দুর। ওই দাড়িমুখো ফিল্ম ক্রিটিকদের মতো কথা বলিস না তো, ওদের দেখতে কেউ হলে যাবে? যাবে ভাইজানকে দেখতে, ভাইয়ের শার্ট খোলা দেখতে। টিজার দেখে বুঝলি না, এই সিনেমাতেও ভাইয়ের রোল লার্জার দ্যান দ্য লাইফ। ভাই মিথ্যা বলে না, ভাই সত্যের জন্য নিজের জান কুরবান করে দেবে। চেনে না, জানে না, এমন একটা বাচ্ছা মেয়ের জন্য ভাইয়ের জান কেঁদে ওঠে।

দ্বিতীয়: সেজন্যই বোধহয় সলমনের বিরুদ্ধে একাধিক নায়িকাকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার।

প্রথম: আবার আব্বাস টায়ারওয়ালার মতো কথা বলছিস। সুদূর লন্ডনে বসে ভারতীয় সিনেমার বাপ-মা উদ্ধার করছে ইদানিং। আরে তুই কি দেখেছিস নাকি সলমনকে ওসব করতে? কোনও ফুটেজ আছে? ওসব টিভি চ্যানেলগুলোর টিআরপি ঝাড়ার ফাঁদ। আর ভাইয়ের রাগটাই দেখলি। বিয়িং হিউম্যান খুলে ভাইজান কতজনকে সাহায্য করেছে জানিস?

দ্বিতীয়: কিন্তু হরিণ শিকার? সে কথা তো সকলেই জানা!

প্রথম: আরে নবাব-বাদশাহদের শিকার না করলে মানায় নাকি? আর মেরেছে তো হরিণ, মানুষ তো গুলি করে মারেনি রে বাবা। তুই টিজারটায় দেখ তো, ভাইজান একা হাতে কটা গুণ্ডাকে শিকার করছে।

দ্বিতীয়: যাই বল, সলমনের ওই একই ধরণের সব সিনেমা, খালি একটু প্রেজেন্টেশান পালটে দিলেই শ’কোটির ক্লাবে ঢোকার ফন্দি, মোটেও একবারে বেশি দেখতে ইচ্ছে করে না।

প্রথম: আরে দেখবি কেন একবারের বেশি? একসঙ্গে ১২০০ স্ক্রিন জুড়ে রিলিজ করবে, দেশজুড়ে ভাইজানের সব ফ্যান একবার করে দেখলেও তো উঠে এল পয়সা। কবীর খান কী এমনি এমনি পয়সা লাগিয়েছে ভাইজানের উপর? ছাড়, তোকে এসব বলে কী হবে। যা তুই গিয়ে দিল ধড়কনে দো দেখে আয়।