উচ্চমাধ্যমিকের পর কী নিয়ে পড়লে চাকরি পাব?

26447

Fly-হাই

সদ্য প্রকাশিত হয়েছে উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল। এখনই তো সেরা কেরিয়ার অপশন খুঁজে নেওয়ার সময়। আর তোমার জীবনের এই সন্ধিক্ষণে পাশে রয়েছে ক্যাম্পাস। একজন খাঁটি বন্ধুর মতো তোমার কাছে প্রথম ইস্যুতে তুলে আনছি সেরা কেরিয়ার অপশন। কয়েকটি প্রথগাত, কয়েকটি একদম নতুন। পড়ো-আর এগিয়ে চলো। অনেক শুভেচ্ছা রইল টিম ক্যাম্পাসের তরফ থেকে।

বিষয় যদি হয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান: pol-sci

 অনেকেই জানতে চান রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ে কী হবে? রাষ্ট্রবিজ্ঞান যেহেতু স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয় না, তাই অনেকেই বলেন, ‘ওটা তো আর স্কুল সাবজেক্ট নয়!’ এখন কারও জীবনের লক্ষ্য যদি হয় স্কুল স্তরে পড়ানো, তাঁর অবশ্যই রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহী হওয়া উচিত নয়। কিন্তু স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর ক্ষেত্রে যদি কেউ শুধু রাষ্ট্রবিজ্ঞান চর্চা করে, জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া তার আটকাবে না।

প্রথমত, অ্যাকাডেমিক লাইন তো খোলা আছেই। স্নাতকোত্তর স্তরে ৫৫ শতাংশ নম্বর এবং নেট/স্লেট পাশ করলে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। কেউ যদি না পড়িয়ে শুধুমাত্র গবেষণা করতে চায়, তবে তার সুযোগও রয়েছে। এমনিতেই ইউ জি সি-র ফেলোশিপ নিয়ে যে-কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা শুরু করা সম্ভব। গবেষণার বিষয় অনেক কিছুই হতে পারে। সমাজবিজ্ঞানে আচরণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাবে প্রথাগত প্রতিষ্ঠান-কেন্দ্রিক বিষয়ের বাইরে ইন্টারডিসিপ্লিনারি ক্ষেত্রের বিকাশ ঘটছে। সাধারণ ভাবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে রাজনৈতিক দর্শন, তুলনামূলক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এই তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হলেও, জনসাধারণ, সমাজতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব প্রভৃতি নানাবিধ ক্ষেত্রে তার শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত। এ ছাড়াও মানবাধিকার, লিঙ্গবৈষম্য বা সেফোলজি-র মতো আকর্ষণীয় বিষয় চর্চার মাধ্যমে গবেষকদের চিন্তা ও কাজের পরিধি ক্রমশ বিস্তৃত হতে পারে। সাধারণত একটি গবেষণা আরও পাঁচটির সুযোগ ও পরিধিকে বিস্তৃত করে, নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়, কাজের সুযোগও বাড়ে।

পাশাপাশি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পড়ুয়ারা সাংবাদিকতায় এলে সাফল্য পান। সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমে প্রতিদিন আমরা যে খবরগুলিকে হেডলাইনস হয়ে উঠতে দেখি বা যেগুলি নিয়ে নিয়মিত চর্চা-বিশ্লেষণ বা সম্পাদকীয় রচনা চলে, তার অধিকাংশই রাজনৈতিক। সে ক্ষেত্রে কেউ যদি স্নাতকস্তর পর্যন্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ করে তার পর সাংবাদিকতায় মনোনিবেশ করেন, তবে তাঁর সাফল্য রোখে কে?

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পড়ুয়ারা আইন ব্যবসাতেও অত্যন্ত সফল হন। সারা বিশ্বে লব্ধপ্রতিষ্ঠ যত জন আইনজ্ঞ রয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা অর্থনীতির পড়ুয়া। এখন উচ্চ মাধ্যমিকের পর সরাসরি আইন নিয়ে পড়া যায়। কিন্তু কেউ যদি স্নাতকস্তর পর্যন্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ নিয়ে তার পর আইন পাঠ করেন, তবে আরও দ্রুত বিষয়ে প্রবেশ সম্ভব।

এ ছাড়াও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পড়ুয়ারা বিভিন্ন এনজিও সংগঠনে কাজ পেতে পারেন। বিশেষত কেউ যদি সোশ্যাল ওয়ার্ক বা মাস কমিউনিকেশনের একটা পর্যায় পর্যন্ত পেশাদারি শিক্ষা লাভ করেন তো কথাই নেই। উচ্চশিক্ষায় গবেষণামূলক কাজে যত বেশি বেসরকারি ক্ষেত্রের প্রসার ঘটবে, ততই গবেষকের স্বাধীনতা ও সৃষ্টিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। আর, রাজ্য বা সর্বভারতীয় (পি এস সি বা ইউ পি এস সি) প্রশাসনিক পরীক্ষা তো আছেই। এগুলিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পড়ুয়ারা সর্বদাই এগিয়ে থাকেন।

 আইন নিয়ে পড়তে চাইলে

এ রাজ্যে তথা গোটা দেশেই তিন বছর (গ্র্যাজুয়েশনের পর) ও পাঁচ বছরের (উচ্চ মাধ্যমিকের পর) এল এল বি করা যায়। রাজ্যে কলকাতা, কল্যাণী, বর্ধমান, বিদ্যাসাগর এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ অনেক কলেজে স্নাতক স্তরে আইন পড়ানো হয়। দু’বছরের এল এল এম কোর্স করা যায় কলকাতা, বর্ধমান, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব জুরিডিকাল সায়েন্সে এবং হলদিয়া ল কলেজে। law

এল এল এম পড়ার সময় কিছু শাখায় স্পেশালাইজেশন করা যায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিমিনাল ল এবং বিজনেস ল-এর যে কোনও একটিতে স্পেশালাইজেশন করা যায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এল এল বি এবং এল এল এম পড়ার জন্য অ্যাডমিশন টেস্ট দিতে হয়। আইন নিয়ে উচ্চশিক্ষা করার ক্ষেত্রে হায়দরাবাদের নালসার, যোধপুর ল স্কুল, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান। এল এল এম করে পিএইচ ডি করা যায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই।

কেমিস্ট্রির সঙ্গে তোমার কেমিস্ট্রি জমে গেলে-

উচ্চ মাধ্যমিকের পর তোমার প্রথম পছন্দ যদি হয় রসায়ন, তাহলে তৈরি হও মাধ্যমিক স্তর থেকেই। কারণ, রসায়নে পড়তে হয় বিভিন্ন রকমের পদার্থ, তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম, তারা কী ভাবে একে অপরের সঙ্গে মিশে এক বা একাধিক নতুন পদার্থ তৈরি করে, যদি নতুন কোনও পদার্থ তারি করে তা হলে সেই পদার্থটির ধর্ম কী ইত্যাদি। chemistry2

পাশাপাশি একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া কী ভাবে সংঘটিত হবে, পর্যায় সারণিতে কোন মৌলের অবস্থান কোথায়, তাদের ধর্ম, মৌলগুলির আন্তঃসম্পর্ক রসায়ন শাস্ত্রের এই প্রথম ধাপগুলি সম্পর্কে ছেলেবেলা থেকে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি করে ফেলতে হবেই।

অনেকের কাছেই বিষয়টি খুব বোরিং মনে হলেও ভেবে দেখ, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমরা যা কিছু ব্যবহার করি, তা সবই তো রাসায়নিক। সে টুথপেস্ট হোক, খাবারদাবার হোক বা কোনও জীবনদায়ী ওষুধ। এই সব জিনিসের জন্ম হয় রসায়নাগারে, উৎপাদন হয় রাসায়নিক শিল্পকারখানায়। পরিবেশের ক্ষতি না করে মানুষের কাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক জিনিসপত্র তৈরি করা, সেই জিনিস তৈরির ঠিক পদ্ধতি আবিষ্কার করা, এক জন দক্ষ রসায়নবিদ ছাড়া তো এ কাজ আর কেউ করতে পারে না।

আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রসায়ন শাস্ত্র এখন আর শুধু তার প্রথাগত শাখার মধ্যেই সীমিত নেই। বরং ছড়িয়ে পড়েছে ফিজিক্যাল, অর্গ্যানিক, ইনঅর্গ্যানিক ও বায়োকেমিস্ট্রির মতো নানাদিকেই।

কেউ স্নাতক স্তরে রসায়ন নিয়ে পড়ে ভবিষ্যতে গবেষণার কথা ভাবে তা হলে তার কাছেও হরেক বিকল্প রয়েছে। যেমন এখন রসায়নের ছাত্রছাত্রীরা স্পেশালাইজেশন করতে পারে সিনথেটিক বা ইনঅর্গ্যানিক কেমিস্ট্রি, বায়োঅর্গ্যানিক এবং বায়োইনঅর্গ্যানিক কেমিস্ট্রি, বায়োমলিকিউলস এবং বায়ো মিমিকস, ড্রাগ ডিজাইন এবং ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেমস, অর্গ্যানোমেটালিক এবং সুপ্রামলিকিউলার কেমিস্ট্রি, কম্পিউটেশনাল এবং থিয়োরেটিক্যাল কেমিস্ট্রি, সলিড স্টেট এবং সফ্ট কনডেন্সড ম্যাটার, কোলয়েডস এবং ইন্টারফেসেজ, রাবার এবং পলিমারস, মেটাল, সেরামিক এবং কম্পোজিটস, ক্যাটালিসিস, ফোটোকেমিস্ট্রি এবং লিথোগ্রাফি, ন্যানোটেকনোলজি ইত্যাদিতে।

এ ছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বিভিন্ন শাখা, মেডিসিন, আর্থ সায়েন্স এবং এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স-এর মতো বিষয়ে ইন্টারডিসিপ্লিনারি গবেষণা করার সুযোগ রয়েছে ছেলেমেয়েদের কাছে।

কেমিস্ট্রি নিয়ে পড়লে চাকরি পাবো?

শিক্ষকতা বা অধ্যাপনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সংস্থাতেও রসায়নের ছাত্রছাত্রীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে। যেমন রাসায়নিক বা আনুষঙ্গিক শিল্পক্ষেত্রে রয়াসনের ছেলেমেয়েরা কাজ পেতে পারে রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট, ম্যানুফ্যাকচারিং, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, সেলস ও মার্কেটিং, ইন্টালেকচুয়্যাল প্রপার্টি রাইটস ইত্যাদিতে। এ ছাড়াও এনার্জি এবং এনভায়রনমেন্ট সেক্টর, অ্যানালিটিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্টস সেক্টর, মেটাল এবং অ্যালয় সেক্টর এমনকী আই টি সেক্টরেও কাজ করা যায় রসায়ন পড়ে। আর যারা সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে চায় তারা তো বিভিন্ন কম্পিটিটিভ পরীক্ষা দিতেই পারে।

উচ্চমাধ্যমিকের পর বিষয় যদি হয় ইংরেজি-

ইংরেজি নিঃসন্দেহে একটি গ্ল্যামারাস বিষয়। উচ্চমাধ্যমিকের পর অনেকেই স্নাতকস্তরে এই বিষয়টিকে বেছে নেন। তবে মনে রাখা দরকার দ্বাদশ স্তর পর্যন্ত ইংরেজি বলতে যে ধরনের পঠনপাঠন ছেলেমেয়েরা করে আসে, স্নাতক বা স্নাতকোত্তর স্তরের ইংরেজি তার থেকে অনেকটাই আলাদা। তাই ‘ইংরেজি নিয়ে পড়ছি’ বলার জন্য ইংরেজি পড়া উচিত নয়। ভাষা ও সাহিত্যের মধ্যে সত্যিই গভীর ভাবে ঢুকতে চাও কি না, সেটা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। eng

বিষয়টা পড়তে গিয়ে যদি তোমার ভাল না লাগে তখন সেটার সঙ্গে তুমি একাত্ম হতে পারবে না। যে কোনও ভাষারই নিজস্ব একটা মাধুর্য থাকে। সৌন্দর্য থাকে। ইংরেজিরও রয়েছে। সেটা বুঝতে হয়। তবেই বিষয়টা তোমার কাছে ধরা দেবে। বিষয়টাকে যদি তুমি বুঝতেই না পারলে, বা ভালবাসতেই না পারলে, তা হলে ভবিষ্যতে যে পেশাতেই যাও না কেন, বেশি দূর এগোতে পারবে না। হয়তো সকলের জন্যই কোনও না কোনও কেরিয়ার পথ ঠিকই বেরিয়ে যায়, তবে যারা ইংরেজিকে ভালবেসে পড়তে আসে তাদের পক্ষে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করা কঠিন কাজ নয়।

ইংরেজি নিয়ে পড়লে কী ধরনের চাকরি পেতে পারো?

সাংবাদিকতা, সংবাদপাঠ, সঞ্চালনা, সম্পাদনা, জনসংযোগ ইত্যাদি ক্ষেত্রগুলিতে ইংরেজির স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ছেলেমেয়েদের প্রচুর সুযোগ। ব্যাঙ্ক এবং বিমা ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসিং এবং যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা দু’ভাবেই ইংরেজির ছাত্র-ছাত্রীরা সুযোগ পাচ্ছে। সর্ব ক্ষেত্রে, ইংরেজির অপরিহার্যতার জন্য নতুন নতুন চাকরির ক্ষেত্র উন্মোচিত হচ্ছে, যেমন কর্পোরেট কমিউনিকেশন, বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থায় ইংরেজির প্রয়োগ শিক্ষণ, বাণিজ্যিক সংস্থায় কনটেন্ট রাইটিং এবং বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িক বিশ্লেষণ। বিনোদন-জগৎ দরজা খুলে দিয়েছে ইংরেজির লোকদের জন্য সিনেমার পরিচালনা, সম্পাদনা, সিনেমাটোগ্রাফি, স্ক্রিপ্ট লিখন, অভিনয়, ফিল্ম রিভিউ, গ্রাফিক ডিজাইন, ফ্যাশন শিল্প ইত্যাদি ক্ষেত্রে।

এ ছাড়া আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগের সম্ভাবনা রয়েছে বিজ্ঞাপন জগৎ, বিপিও, এনজিও সংস্থা ইত্যাদি। ইচ্ছুক এবং উদ্যোগীদের জন্য সুযোগ রয়েছে লাইব্রেরি সায়েন্স এবং অ্যাপ্লায়েড আর্টসে। রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন রকম সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ইংরেজির ছাত্র-ছাত্রীদের। যদি কেউ এমবিএ করতে চাও, এই বিষয়ে মন দিয়ে পড়াশোনা করলে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সম্ভাবনাও বেশ উজ্জ্বল।

সর্বোপরি রয়েছে শিক্ষাজগতের সুযোগ। যাঁরা শিক্ষকতা করতে চান ইংরেজি সাহিত্যে এবং বিভিন্ন এমবিএ কলেজে, যোগ্যতার নিরিখে প্রচুর সুযোগ রয়েছে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা তো দেশ-বিদেশে হচ্ছেই। গবেষণার কত রকম বিষয় ইংরেজি সাহিত্য, অন্যান্য ভাষার সাহিত্য, নৃতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, নিউরো লিঙ্গুয়িস্টিক্স, আর্ট এবং আর্কিটেকচার, জেন্ডার, শিশুসাহিত্য, কল্পসাহিত্য, থিয়োলজি, দলিত সাহিত্য, কালচার স্টাডি ইত্যাদি।

গেমস ভালোবাসো? গড়তে চাও কেরিয়ার-

গেম ডেভেলপমেন্ট-এর বিভিন্ন ধরনের কোর্স রয়েছে, যেমন ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট ইত্যাদি। পিকাসো অ্যানিমেশন কলেজ (http://www.picasso.co.in)-এর পিকাসো গেম অ্যান্ড আর্ট প্রোগ্রাম-এর একটি ১ বছরের সার্টিফিকেট কোর্স রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেই এই কোর্সটি করা যায়। পুণের মায়া অ্যাকাডেমি অব অ্যাডভান্সড সিনেমাটিক্স বা ম্যাক (http://www.maacpune.com)-এ গেম ডিজাইন অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশনের একটি ১ বছরের সার্টিফিকেট কোর্স রয়েছে। দুটি সেমেস্টারে ভাগ করা এই কোর্সের প্রথম ৬ মাসে গেম ডিজাইন এবং পরের ৬ মাসে গেম আর্ট অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশনের ক্লাস করানো হয়। Bring-Video-Game-Industry

এ ছাড়া, বেঙ্গালুরুর ইমেজ কলেজ অব আর্টস, অ্যানিমেশন অ্যান্ড টেকনলজি (http://www.icat.ac.in/courses-b-a-game-development-content.asp)-তে ৩ বছরের বিএ ডিগ্রি কোর্স ছাড়াও ১ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স পড়ানো হয়। এ ছাড়া, কলকাতার এরিনা মাল্টিমিডিয়া (www.arena-multimedia.com)-য় গেম আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন-এর ১৫ মাসের একটি কোর্স করানো হয়। অ্যানিটুপিক্স (www.ani2pix.com)-এ ১ বছরের গেম ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের কোর্স রয়েছে। এ ছাড়া, ভারচুয়াল ইনফোকম (www.virtualinfocom.com)-এ ১ বছরের গেম প্রোগ্রামিং কোর্স করানো হয়। এই কোর্সের পর গেম ডেভেলপার বা গেমিং আর্টিস্ট হিসেবে ম্যানুয়াল বা ডিজিটাল দু’ধরনের কাজই পাওয়া যায়।

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে কেরিয়ার গড়তে চাইলে

বিভিন্ন ধরনের মেশিন থেকে শুরু করে একটি ছোট্ট নাটবল্টু শিল্পক্ষেত্রে যা যা ব্যবহৃত তা সবই মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সাহায্যে তৈরি। কোনও যন্ত্রকে প্রথমে নকশা করা, সেই নকশা অনুযায়ী যন্ত্রটিকে পরিমার্জন করা, তার নির্মাণ, এর পর উৎপাদন, সেটিকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে স্থাপন করা, সেটিকে চালানো এবং তার রক্ষণাবেক্ষণ এ সবই হল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ। বিশাল স্টিম ও গ্যাস টারবাইন থেকে শুরু করে গাড়ি, রেফ্রিজারেটর সবই তৈরি করেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা।

যাদবপুর ইউনিভার্সিটি, বেসু, কল্যাণী গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (www.kgec.ac.in), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনলজি, দুর্গাপুর (http://www.nitdgp.ac.in/me/), জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ফিউচার ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (http://www.teamfuture.in), হলদিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনলজি-র এর মতো বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে বি টেক পড়া যায়। আইআইটি খড়্গপুরে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যানুফ্যাকচারিং সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বি টেক কোর্স রয়েছে। এ ছাড়াও এখানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বিভিন্ন বিষয়ে ডুয়াল ডিগ্রি এবং এম টেক করা যায়। mechanical

রাজ্যের বাইরে খড়্গপুরের পাশাপাশি অধিকাংশ আইআইটিতেই মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বা তার আনুষঙ্গিক বিষয়ে বি টেক ও এম টেক করা যায়। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স, বেঙ্গালুরুতেও (www.iisc.ernet.in) এই বিষয়ে এম ই, এম এসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং) ও পিএইচ ডি কোর্স রয়েছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনলজি, তিরুচেরাপল্লি (www.nitt.edu) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বি টেক করার পর থার্মাল পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইন্ডাসট্রিয়াল সেফটি ইঞ্জিনিয়ারিং-এ এম টেক পড়া যায়। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ম্যানুফ্যাকচারিং, ইন্ডাসট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, থার্মাল ফ্লুইড সায়েন্স, মেশিন ডিজাইন মতো বিষয়ে স্পেশালাইজেশন করা যায়। যারা মেকানিক্যাল-এ বি টেক করার পর অন্য কোনও বিষয়ে উচ্চশিক্ষা করতে চায় তারা ন্যানোটেকনলজি, পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়ো ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মতো বিষয়গুলি বেছে নিতে পারে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা সাধারণত বিভিন্ন উৎপাদন সংস্থায় কাজের সুযোগ পান।