সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ ‘নারী’ করে মানুষ করো নি!

417

poulamiঘুরতে যাওয়ার নাম শুনলেই মনটা উড়ু উড়ু করে? কিংবা একলা দুপুরে জানালার বাইরের দোয়েল পাখিটাকে দেখলেই মনে কবিতারা জন্মায়? তাহলে আর দেরি না করে, তোমার মনে জমে থাকা যে কোনও গপ্পো শেয়ার করে ফেল Blogবক-এর পাতায়। সঙ্গে তোমার ছবি, ইমেল আইডিও পাঠিও। এ সপ্তাহে কলম ধরলেন পৌলমী ঘোষ

শিশুকন্যা-মেয়ে-নারী! আদি অনন্ত থেকে পুরুষতন্ত্র নারীর বিভিন্ন রূপকে নানা উপায়ে দমন করে এসেছে৷ তাকে যুগ যুগ ধরে পুরুষই নগ্ন করেছে আবার পুরুষই তা নিয়ে বিলাসিতা করেছে৷ যখন বিলাসে ব্যাঘাত ঘটেছে তখন নিন্দা করেছে৷ আর নিন্দা করেও আশ না মিটলে ধর্ষণ করেছে৷

পূরাণ মতে আদমের বিলাসিতার জন্য ইশ্বর তৈরি করেছিলেন ইভ-২ কে৷ এই ইভের নাকি সৃষ্টি হয়েছিল আদমের শরীরের অংশ থেকেই৷ ইশ্বরের উদ্দেশ্য ছিল ইভকে এমনভাবে সৃষ্টি করতে হবে যাতে আদমের কাছে কৃতজ্ঞ থাকে ইভ-২৷ তাই আদমের শরীর থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছিল তাকে৷ কারন ইভ-২ এর আগে বিধাতা আদমের মতোই ধুলো দিয়ে তৈরি করেছিলেন ইভকে৷ কিন্তু সমস্যা হয়েছিল আদমের সঙ্গে মিলনের সময়৷ ইভ কিছুতেই আদমের নিচে থাকতে রাজি হন নি৷ তাই বাধ্য হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেন ইশ্বর৷ তাহলে বোঝাই যাচ্ছে নারীর উৎপত্তির ইতিহাস কি৷ আর এই ইতিহাস আর কারও না পুরুষতন্ত্রেরই সৃষ্টি৷ এছাড়াও দ্রৌপদী থেকে শুরু করে সীতা সর্বত্রই নারী চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে পুরুষমহলে৷ তাদের শরীরের আবরন টেনে খুলেছে পুরুষ, তাকে লজ্জা পেতে শিখিয়েছে পুরুষ, ভয় দেখিয়েছে পুরুষ আবার অন্য পুরুষ তাকে দয়া করেছে৷

শিল্প থেকে শুরু করে সাহিত্য অথবা গল্প কবিতা থেকে শুরু করে সিনেপর্দা সব জায়গায় নারীর শরীরের চাহিদা৷ নারীকে আবৃত করে রাখলে পুরুষতন্ত্র আস্কারা দেয় না তাকে৷ আরেক দিকে নারীকে অনাবৃত করে রাখলে তার থেকে চোখ সরে না পুরুষের আবার সমালোচনা করতেও ছাড়ে না তারা৷ নারীর পোষাকে কতটা স্বাধীনতা থাকবে তা ঠিক করে দেয় আমাদের সমাজ৷ কেউ দয়া করে নারীকে স্বধীনতার অধিক অংশ দিয়ে দিলে প্রশ্ন ওঠে তাকে নিয়েও৷ যেন নারী যাই করে তা পুরুষের কথা ভেবে৷ ঠিক কি ধরনের পোষাক পড়লে তা বিচলিত করবে না পুরুষকে সেই অনুযায়ী নারীকে পোষাক পড়তে হবে এমনই অলিখিত ধারা চলে পিতৃতন্ত্রে৷

কখনও আবার এমন মন্তব্যও শোনা যায় নারীর ধর্ষণ হওয়ার পিছনে নাকি নারীর খোলামেলা পোষাকই দায়ী থাকে৷ এই প্রশ্নের পাল্টা প্রশ্ন একটাই হয়৷ দুমাসের শিশু থেকে শুরু করে ৬০বছরের বৃদ্ধা সবার ধর্ষণের পিছনে পোষাক কি ভাবে দায়ী হয়? আসলে পুরুষতন্ত্র নারীকে ভয় দেখিয়ে বাধ্য করে রাখতে চায়৷ তার চলা ফেরা ওঠা বসা কাঁদা হাসা পোষাক পরিচ্ছদ সবেতেই চলবে পুরুষের আধিপত্য৷ অন্যথায় ধর্ষণ!

এখন অনেকের মুখেই শুনি মেয়েরা এখন অনেক স্বাধীন! সত্যি কি তাই? মেয়েরা যদি স্বাধীন হত এই বক্তব্যই শোনা যেত কি? নারীকে স্বাধীনতা দেওয়ার পুরুষ তো কেউ নয়৷ আধুনিক মেয়েরা জিনস পরে, তাই তারা স্বাধীন৷ মেয়েরা পুরুষের পাশে বসে অফিস করে তাই মেয়েরা স্বাধীন৷ কিন্তু প্রতিদিন রাতের অন্ধকারে সেরকমই কোন মেয়ের ধর্ষণ করছে কোন না কোন পুরুষ৷ মনে মনে অথবা সুযোগ থকলে বাস্তবেও৷

কোন মেয়ে তার শরীরের কতোটা অংশ খুলে রাখবে অথবা কতোটা ঢেকে রাখবে সেটা তার ওপর ছেড়ে দেওয়াই তো ভালো৷ সে সিনে পর্দায় নিজেকে কতটা উন্মোচন করবে সেটা সেই সিদ্ধান্ত নিক৷ তা নিয়ে পুরুষের সমালোচনার ঝড় তোলার তো কোন কারন দেখি না৷ পুরুষরা যারা নিজের পৌরুষ নিয়ে গর্ব করেন তারা নিজেকে নারীর স্বাভাবিক শরীরের কাছে এতোটা দুর্বল করবেন না৷ আমার মনে হয় ধর্ষণে নারীর দৈহিক হার হলেও পুরুষের মানবিক দুর্বলতাই প্রকাশ পায়৷

সর্বোপরি নারীকে ‘নারী’ না ভেবে মানুষ ভাবুন ও ভাবতে সাহায্য করুন৷