“কালো কাঁচে ঢাকা পর্নস্টার চলছে না, চলবে না”

1030

ইংরেজিতে পর্ন, বাংলায় ডাকনাম পানু। শব্দটা পড়ে কপাল কুঁচকোলে কী হবে, কোনও পড়ুয়া ‘আজ পর্যন্ত দেখিনি’ বললে মোটেও বিশ্বাস করবেন না? তা এহেন পর্ন নিয়ে আজকের আড্ডা-buzz জমজমাট। হাফিংটন পোস্টে প্রকাশ, ক্যালিফর্নিয়ার এক নয়া বিলের ড্রাফ্ট তৈরি হচ্ছে, যেখানে বলা হয়েছে, পর্ন ফিল্মে অভিনয় করার সময় পর্নস্টারদের গগলস বা এক বিশেষ ধরনের চশমা পড়তে হবে। এহেন আবেদনটি জানিয়েছিলো ডিভিশন অফ অকুপেশনাল সেফটি এন্ড হেলথ স্ট্যান্ডার্ডস। খবর শুনে ক্যালিফর্নিয়া তো বটেই, কলকাতাতেও চিন্তায় পড়েছেন টিন-ট্যুইনরা। মানেটা কী, এবার থেকে প্রিয় তারকাকে(সিনেমা হলে না হোক, বাড়ির ডেস্টটপে তো বটেই) ‘অ্যাকশন সিনে’ চশমা পড়ে দেখতে হবে? সিটি সেন্টারে এই নিয়ে জমাটি এক আলোচনায় ঢুকে পড়ল ক্যাম্পাসও-আর সেই আলোচনার বিষয় বিশেষ তুলে ধরছেন দীপেন্দু পাল৷dipendu-paul

শনিবারের সন্ধ্যায় সিটি সেন্টার জমজমাট। হ্যাং আউট থেকে টি জংশন- দলে দলে পড়ুয়া-চাকুরিজীবী-যুগলের ভিড়। কলেজ পড়ুয়া খুঁজতে গিয়ে চোখ পড়ল একঝাঁকের দিকে। কথা বলে জানা গেল, ওরা কেউ আশুতোষ কলেজ, কেউ যাদবপুরে ডিপ্লোমার পড়ুয়া। টপিকটা বলতেই হুল্লোড়। শুরু হয়ে গেল তর্ক-বিতর্ক। খানিকটা সেন্সর করে ছাপল ক্যাম্পাস-

রৌনক বন্দ্যোপাধ্যায়(যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, স্মার্ট, গুছিয়ে কথা বলতে ওস্তাদ): বিল এ বি ৬৪০-র ড্রাফটে পড়লাম সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ইনফেকশনের হাত থেকে বাঁচতেই নাকি এহেন দাওয়াই। এর আগে এরকমই একটা বিল পুরুষ পর্ন অভিনেতাদের কন্ডোম পড়া বাধ্যতামূলক করেছিল। কিন্তু এবারটা বড্ডা বাড়াবাড়ি।

সাত্যকী ঘোড়ুই( ভৈরব গাঙ্গুলি কলেজ, হুল্লোড়ে, সবথেকে আড্ডাবাজ): হুম, আমিও পড়লাম বিষয়টা। তবে চশমাটা একটু আমাদের খবরের কাগজগুলোর অ্যাডিশন। পড়ে জানলাম বলে হয়েছে, চোখ-ত্বক, গলা এগুলো ঢেকে রাখার কথা রয়েছে ওই ড্রাফটে। নিয়মগুলো লাগু করতে চেয়েছেন কোন এক এইডস হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাইকেল ওয়েন্সটাইন।

মল্লিকা মিত্র(আশুতোষ কলেজ, নাক উঁচু, দেমাক রয়েছে দেখেই বোঝা যায়): দ্যাখ, ব্যাপারটা তোরা ছেলেরা বাড়াবাড়ি বলছিস বটে, কিন্তু ভেবে দ্যাখ, যে মেয়েগুলোকে প্রফেশনের জন্য এই কাজগুলো করতে হয়, তাদেরও তো হেলথের দিকটা দেখতে হবে নাকি? ওটা বিদেশ ভুলে যাস না। ওখানে মেয়েরা নিজেদের অধিকারের জন্য লড়তে পিছপা হয় না। আসলে পর্নস্টারদেরই নিরাপত্তার জন্যই হয়তো এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমি শুনেছি অনেক পর্নস্টারই নাকি এইডসের মতো রোগে আক্রান্ত হন শ্যুটিংয়ের জন্য। অনেকের ক্ষেত্রে আবার এতটা বাড়াবাড়ি না হলেও অনেক ফিজিক্যাল সমস্যা হয়। অনেকে অকালে বুড়িয়ে যায়।

পর্নস্টাররা: মেক আপের আগে ও পরে
সামান্য মেক-আপে কীভাবে পালটে যায় পর্নস্টারদের ভোল-জানতে ক্লিক করুন এই ছবিতে

রাজীব ভট্টাচার্য(যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কথায় কিন্তু কিন্তু ভাবটা বেশি): দ্যাখ মোদ্দা কথা হল, পর্ন একটা এন্টারটেনমেন্ট। অনেকটা হলিউডি সিনেমা বা WWE-র মতো। আমাদের দেশে সিনেমায় নায়ক-ভিলেন সিগারেট খেতে পারবে না বলে একবার সেন্সর বোর্ড উঠেপড়ে লেগেছিল। কিন্তু তাতে সিনেমার কোয়ালিটিই মার খেল। শেষ পর্যন্ত এখন নিচে একটা ছোট্ট লাইন লিখে ওই নিয়মরক্ষা করা হয়। দেখবি, এই আইনও একদিন এখানেই এসে ঠেকবে।

সাত্যকী: দ্যাখ বস, অতশত বুঝি না। আমার কথা হল, ইন্টারনেট থেকে কয়েক জিবি ওসব ‘মাল’ নামানোর সময় আমি যদি দেখি পর্নস্টারটা চশমা পরেছে, আমি ডাউনলোডই করব না।

রৌনক: এক্সজ্যাটলি এই পয়েন্টটাই তুলছে ‘কিং পর্ন’-এর সান ফ্রান্সিসকোর এক মুখপাত্র মাইকেল স্ট্যাবিল। একা কিং পর্ন নয়, নটি অ্যামেরিকার মতো সংস্থাগুলো অনলাইনে দাবি করেছে, এর ফলে ওদের ব্যবসা পুরো মার খাবে। এই আইন অ্যাডাল্ট ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

মল্লিকা: তোরা কিন্তু বারবার একটা জিনিস এড়িয়ে যাচ্ছিস। মহিলাদের স্বাস্থ্য নিয়ে বড়বড় কথা তোরা ফেসবুকেই কপচাতে পারিস। বাস্তবে ভোঁ ভাঁ। জানিস, মেয়েদের কত কষ্ট হয় এসব শ্যুটিং করার সময়? আর সেগুলো দেখে তোরা কিছু পার্ভার্ট ছেলেরা মজা পাস!

রাজীব: কিন্তু ওরা শুনেছি অনেক পেমেন্ট পায়…

সাত্যকী: আরে গুরু, আলোচনাটা অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছিস কেন? কথা হচ্ছিল পর্নস্টারদের চশমা পড়া নিয়ে… এখানে এন্টারটেনমেন্ট ভ্যালুর আলোচনায় হেলথ কেন ঢুকছে?mia

রৌনক: মিয়া খলিফা কিন্তু চশমা পড়েও সুপারহিট। (হাসির শোরগোল পড়ে গেল এই কথায়) যে কোনও পর্ন ওয়েবসাইটে মিয়ার র‍্যাঙ্কিং নম্বর ওয়ান।

মল্লিকা: তাহলে তোরা কি চাস? মেয়েরা ভোগ্যপণ্য হয়েই থাকুক?

রাজীব: আমি কিন্তু ওরকম বলিনি একবারও..

সাত্যকী: আরে থামো বন্ধুসব। এটা আড্ডা, ঝগড়া নয়। আর আমরা কি ভাবি না ভাবি, তাতে ক্যালিফর্নিয়ার আইন বদলাবে না। ও দেশের অনেক জায়গায় বিচিত্র সব নিয়ম লাগু রয়েছে পর্নস্টারদের জন্য। এখন ক্যালিফর্নিয়ায় পর্নে কন্ডোম ব্যবহার করা হয়। তবে শুনেছি তার জন্য কখনও কাউকে বাধ্য করা হয়নি। ইউ এস এ-তে ক্যালিফর্নিয়া, লস এঞ্জেলস, লাস ভেগাস এবং দক্ষিণ ফ্লেরিডায় পর্নের বিশাল ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে।

রৌনক: পর্ন ইন্ডাস্ট্রির অ্যানুয়াল ইনকাম জানিস? ফোর্বস বলছে, অন্তত ১৪ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু ২০১৩-য় কিছু আইনকানুনের জন্য ওদের প্রচুর লস হয়।

রাজীব: কিন্তু…

মল্লিকা: থাম। সবেতেই কিন্তু কিন্তু। শেষ কথা হল, পর্ন ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে,থাকবেও। বিকৃত হোক, স্বাভাবিক হোক, সে আলাদা ব্যাপার। কিন্তু মহিলাদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি মাথায় রাখা হোক।

আলোচনা চলেতেই থাকত। কিন্তু ক্যাম্পাসের টিমের ফেরৎ আসার সময় হয়ে গিয়েছিল। তাই আড্ডা থামাতে হল। সব্বাইকে টাটা বলে আসা হল। পরের সপ্তাহে আবারও কোনও এক এরকম দলের সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে ঠিক।

আলোচনার ঠেক: সিটি সেন্টার
আলোচনার ঠেক: সিটি সেন্টার