“অ্যাপেল খাবা? তাতে যে কত্ত ম-জা!!

617

ইভ এনেছে অ্যাপেল কিনে, আদম গব গব খেলো টিফিনে,” তারপর…!! তারপর যাই হোক, একটা বিষয় পরিষ্কার, এত দিনে বোঝা গেল, ইভ কেন আদমের জন্য আপেল এনেছিল। আহা, যৌনতা মাপতে হবে না?

পরিমাপ ছাড়া কিছু হয় নাকি! সাকসেসফুল বাঙালি হতে পরিমাপ আবশ্যক। ‘দু-কাপ’ চিনির ব্ল্যাক কফি, ‘অর্ধেক কুসুম’ সঙ্গে ‘একটুকরো’ পাঁউরুটি, ‘দু-মিনিটে’র ম্যাগি, ‘১০.৩০’-এর অফিস গেট, ‘১৫ মিনিটে’ কাগজের প্রথম পাতা, সবই তো পরিমাপ। এত কিছুর মধ্যে স্বাদের, আহ্লাদের, তাড়নার ‘যৌনতা’কে অঙ্কের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম হিসাবে মাপা যাবে না, তা হয় নাকি? যেমন ভাবা তেমনি কাজ। টিম কুক জানিয়ে দিলেন আর দেরি নয়, আরও একবার গ্রাহক-হৃদয় পড়তে সমর্থ আমরা বাজারে আনছি অ্যাপেলের ‘যৌনকাঠি’। কাঠিই বটে, তবে এ কাঠি মাপকাঠি। কিছুই না, একটি ছোট্ট বর্গফুট-বাই বর্গফুট মাপের ন্যানো অ্যাপ। ইনস্টল করলেই কেল্লাফতে।

কতটা ঘামলেন, কতটা ঘর্ষণ হল, নিদেনপক্ষে শুক্রাণুই বা কতটা বের হল, আপনার স্মার্ট ছানাই দেখতে কেমন হবে, সবই আইফোন বা আইপ্যাডের পর্দায় ফুটে উঠবে। আর দেখে কে! ফাঁকা সময়ে একটু পরিমাপ করে সঙ্গী-সঙ্গিনীর সঙ্গে রতিক্রিয়ায় অংশ নিলেই হল। সন্তানসম্ভবা হওয়ার ফুল মার্কস পেতে আপনাকে আটকায় কে! a-2

গ্রাহক এই নয়া ‘যৌন মাপকাঠি’ চেয়েছিল কি না, জানা নেই। এখনও এই সংক্রান্ত কোনও সমীক্ষা এই অধমের চক্ষুগোচর হয়নি। তবে সমীক্ষায় কী যায় আসে?

অ্যাপেলের জন্মদাতা স্টিভ জোবসই তো বলে গিয়েছেন, “এ বাজার বড় বিচিত্র। এখানে কাউকে জিজ্ঞাসা কোরো না, তার কী চাই। কারণ তুমি গ্রাহকদের পছন্দ অনুযায়ী কিছু বানাতে বসলে যত দিনে অভীষ্টে পৌঁছবে, দেখবে তত দিনে সেই গ্রাহকদের চাহিদা বদলে গিয়েছে। যা পারবে তৈরি করে গ্রাহকদের হাতে দাও, দেখবে গ্রাহক সেটাকেই তাঁর চাহিদা বলে আপন করে নেবে।”

nilotpal
নীলোৎপল বিশ্বাস

বোঝা গেল, বাজার দর্শনের মামা-কাকাদের হাঁ করিয়ে বিগত কয়েক বছরে কী করে ‘আরও আরও আরও দাও’ মডেলে ফোন, কম্পিউটার বানিয়ে পৃথিবী শাসন করে চলেছে স্টিভ জোবসের স্বাদের অ্যাপেল। তাই বলে যৌনতা পরিমাপ? দাঁড়ান দাঁড়ান, আরও আছে!

সমীক্ষা বলছে, ভারতের মতো দেশে ‘ওয়ালেট’ বা প্রিয় মানিব্যাগ ব্যবহার করেন শহরকেন্দ্রিক ৬০ শতাংশ মোটা ইনকামের মানুষ। বাকি ৪০ শতাংশ তবে কী? আহা, তাদের টাকা নেই তাই মানিব্যাগ থেকে বিমুখ, এমনটা ভাবলে বোকামি হবে। হয়তো ঘামে চুপচুপে প্যান্টের তলায় র‍্যাশ আটকাতে কাগজের সঙ্গেই টাকা রাখতে পছন্দ করেন তাঁদের। অতএব মানিব্যাগ দরকার নেই। নয়তো তাঁদের পকেটে স্মার্ট কার্ড আছে৷এখানেই যবনিকা পতন নহে। চতুর্থ কারণ অবশ্যই অ্যাপেল। অ্যাপেলের ওয়ালেট অ্যাপের তাড়নায় বিলেত-আমেরিকার মতো দেশে মানিব্যাগ মৃতপ্রায়, ফসিলায়ন পথযাত্রী। যদিও ভারতীয় বাজারে এখনও অ্যাপের এই উন্নততর প্রয়োগ সেভাবে পৌছয়নি। a-w

এতেও শেষ নেই চমকের। হরমোন লোচা সামলে উঠে প্রথম বুঝতে শিখলাম যেদিন, সেদিন থেকেই ভেবেছিলাম সাংবাদিক হলে কেমন হয়। হয়তো সেদিকে প্রথম স্টেপটা ঠিকঠাকই ফেলেছিলাম। গোল বাধাল আবার সেই অ্যাপেল।

গত পরশু সকালে বন্ধুর মুখে খবর শুনে অবাক হলাম, অ্যাপেল নাকি সাংবাদিক খুঁজছে। প্রথমটায় বিশ্বাস হল না, খোঁজ নিয়ে দেখলাম কথাটা ভুল নয়। নিজেদের নিজস্ব নিউজ সার্ভিসের জন্য সাংবাদিক খুঁজছে তারা। যোগ্যতা, পাঁচ বছর কোনও বিশিষ্ট সংবাদ সংস্থায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ভাবলাম, অ্যাপ্লাই করলে হয়। হঠাৎ একটা কথা ভেবে ব্রেক কষলাম। এক বন্ধুর মজা করে বলা একটা কথা মনে পড়ে গেল। সে বলেছিল, “গুগলে অ্যাপেল লিখে সার্চ দিলে গুগল বলবে, যতটা হাত যায় ততটাই চুলকানো উচিত।”

জাদুকাঠি তো অনেক হল, আইফোন-আইপ্যাডের চাহিদার খবর খবরের কাগজের পাতা থেকে পাঠকের মাথা, সবই ভরাল। অ্যাপেল ঘিরে তাই ‘মগজে কার্ফু’ চলছে-চলবে। একটাই দুঃখ, স্টিভ জোবস কাশ স্বপ্নবাতেলায় বলতেন,

“গরিবের জন্য কিছু করতে হবে

অ্যাপেল কিনে সাফল করার সুযোগ দিতে

গুটিকয়েক অ্যাপলে না হয় তাদের দিলাম ফ্রিতে।”

কিন্তু কী আর করা, দামটা যে বরাবর ধরাছোঁয়ার বাইরে! apple-1