“এক্স ইক্যুয়েলস টু প্রেম ধরে কষে মেলেনি প্রেমের অঙ্ক”

2492

ক্যাম্পাসের তৃতীয় এডিশনের আড্ডাবাজের বিষয় ভাবতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হল। পাঠকদের কাছে থেকে বহু সাজেশন এসেছে স্বীকার করে নিচ্ছি। সেই সমস্ত বিষয়ের মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হল একটি বিষয়। এবারের আড্ডার বিষয়- এক্স ইক্যুয়েলস টু প্রেম।

প্রথম প্রেম, প্রথম প্রেমে লেঙ্গি, প্রথম ঝারি, প্রথম ব্যথা, প্রথম অপমান, প্রথম নিরাপত্তাহীনতা, প্রথম ডিপ্রেশন, প্রথম হাতে কাটার দাগ-প্রেমই জানে প্রথম সবকিছু। আড্ডার বিষয় নিয়ে টিম ক্যাম্পাস হাজির হল মনি স্কোয়্যার মলে। মলের বাইরে আড্ডারত একদল টিনএজারকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতেই ওরা এক কথায় রাজি। ব্যাস, টিম ক্যাম্পাস খাতা-কলম নিয়ে বসে গেল। ওদের আড্ডার নির্যাসটুকু খানিকটা ফিল্টার করে ছাপল ক্যাম্পাস। লিখছেন দীপেন্দু পাল dipendu-paul

এক্স ইক্যুয়েলস টু প্রেম

(হৃদ বন্দ্যোপাধ্যায়, আধুনিক ছোকরা। সিরিয়াস, টিশার্টে শক্তি চাটুজ্যের কবিতা লেখা। হিউমার-জ্ঞান রয়েছে কথাবার্তাতেই স্পষ্ট।)

হৃদ: দ্যাখো বস, মুখে যতই বড় বড় কথা আমরা বলি না কেন, খুব স্টেবল কোনও রিলেশনশিপে থাকা ছেলে বা মেয়েরাও মনে মনে অন্তত একবার এক্স প্রেমিক-প্রেমিকার কথা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলেই।

(অনুত্তমা সরকার, মুখে কথার ফুলঝুরি। গলার আওয়াজেই স্পষ্ট ঝগড়া করতে ওস্তাদ। স্পষ্ট কথা বলতে জড়তা নেই। মোদ্দা কথা, একদমই ন্যাকা নয়, চশমাও নেই।)

অনুত্তমা: *** এর কথা বলিস না। এটা প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অনুভূতি। কারুর প্রথম সম্পর্ক যদি খুব বাজেভাবে ভেঙে যায়, তাহলে পরে একবারের জন্যও এক্স বয়ফ্রেন্ডের কথা ভেবে মেয়েরা হা-হুতাশ করে না। এসব ন্যাকামো আমাকে দেখিও না।

প্রশান্ত মণ্ডল( বয়স এই গ্রুপে সবথেকে বেশি। হাসে কম, কথাও বলে কম। শোনে বেশি। প্রথম প্রেম ধোপে টেকেনি বলে মেয়েদের উপর একটা প্রচ্ছন্ন রাগ আছে কথা শুনলেই বোঝা যায়)

প্রশান্ত: আমি অনুত্তমার সঙ্গে একমত। আর একটা রিলেশনশিপে কমিটেড হয়ে যাওয়ার পর, বা বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর একটা ছেলে বা মেয়ে কেউ যদি তাদের এক্স-এর কথা ভাবে, তাহলে সেটাকে পলিগ্যামি বললে খুব ভুল বলা হবে না। বুঝে নিতে হবে, সেই ছেলে বা মেয়েটি আদতেও কোনও একজনের সঙ্গে থাকার যোগ্য নয়।

অনির্বাণ বসু ( হাসে বেশি, কথায় যুক্তির অভাব রয়েছে, কিন্তু হুল্লোড়ে। আবেগের বশে কথায় ঝাঁঝ বেশি, সহজেই প্রভাবিত হয় অন্যের কথায়।)

অনির্বাণ: কিন্তু এখানে আজ যারা যারা আমরা গল্প করছি, তারাই যদি বাড়ি গিয়ে দেখি ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপে তাদের এক্স একটা ছোট্ট ‘মিনিংফুল’ মেসেজ পাঠিয়েছে, বুকে হাত রেখে বলতে পারব যে আমাদের প্রত্যেকের বুকটা একবার অন্তত ‘ধক’ করে উঠবে না?

অনুত্তমা: (যথেষ্ট রেগেমেগে) মোটেও করবে না। তুই কি জানিস রিলেশনশিপে একটা মেয়েকে কী কী হ্যাপা পোয়াতে হয়? আমার বয়ফ্রেন্ড আর একটা মেয়েকে পটাবে বলে আমাকে টুপি পড়িয়ে আমার কাছ থেকে পয়সা নিয়ে গেছে ডেট করতে। আমি তখন বুঝিনি। পরে ধরা পড়ে যায়। এবার আমাকে বল তো, কী করে তার পাঠানো একটা মেসেজ দেখে আজ আমি চমকে উঠব? love-final-2

হৃদ: অনুত্তমা কথাটা ঠিকই, কিন্তু অনির্বাণের কথাটাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অন্তত আমরা যারা খুব কেজো জগতকে কখনই আপন করে নিতে পারি না, তাদের কাছে এক্স-এর জন্য রোম্যান্টিসিজমটা খানিকটা হলেও রয়ে যায়। বর্তমান যাই হোক না কেন, অতীতের ফেলে আসা দিনগুলোর কথা ভুলে যাই কীভাবে বল?

প্রশান্ত: বিয়েটা করো বাবা, রোম্যান্টিসিজম সব পিছন থেকে বেরিয়ে যাবে…*****। বউ যখন সকাল-বিকেল বাজার থেকে শুরু করে ইলেকট্রিকের বিল জমা দিতে ছোটাবে তখন কে এক্স কে ওয়াই সব ভুলে শুধু ঘরসংসার করতে হবে।

অনুত্তমা: আর কে এসব আবেগের আজকাল দাম দেবে তোর? এক্স-এর সঙ্গে রাস্তাঘাটে দেখা হলে আমি তো গালাগাল দিয়ে ভূত ভাগিয়ে দেব। বলব আমার সাড়ে উনিশ হাজার টাকা ফেরত দাও আগে।

অনির্বাণ: ধুস, অনুত্তমা বড্ড আন-রোম্যান্টিক । আমি তো বরং বেশ ভাবতে পারি, আমার সঙ্গে আমার এক্স-এর যদি কোনও এক পুরনো চেনা পথে চলতে চলতে দেখা হয়, আমি তাঁকে বলব, “সেদিন আমার হাত ছেড়ে গিয়েছিলি অন্য একজনের জন্য, আজ কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও কি আমার হাত একবার ধরা যায় না?

হৃদ: আমি হলে তো এই কথাটাই বলতাম। আসলে এক্স-এর সঙ্গে তোর সম্পর্ক কেমন হবে, তা অনেকাংশেই ডিপেন্ড করছে তোদের ব্রেক আপ কীভাবে হয়েছে তার উপর। আমার যেমন ব্রেক আপ-এর পিছনে খুব একটা হার্ট মেলটিং স্টোরি নেই। আমরা মিউচুয়ালই আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমরা আজও সোশ্যাল মিডিয়ামে অল্পবিস্তর যোগাযোগ রাখি। আমি যেদিন আই-ফোন কিনলাম, সেদিন ওকে জানিয়েছিলাম। ও রেসপন্সও করেছে।

প্রশান্ত: আর একটা কথা দ্যাখ। যখন তুই কোনও সম্পর্কে রয়েছিস, তখন তোর বর্তমান গার্লফ্রেন্ডকে তোর এক্স-কে নিয়ে যাবতীয় ফিলিংসয়ের কথাগুলি খোলসা করেই বলাই ভালো। নইলে খামোখা অশান্তি হবে। আমি অনেককে দেখেছি, এক্স-কে নিয়ে মন খারাপ করতে করতে নিজের প্রেজেন্ট রিলেশনটাকেও জলাঞ্জলি দিয়েছে।

অনুত্তমা: যে যাই বলে বলুক। আমার সাফ কথা, এক্স-কে মারো গুলি। লাইফের মূল মন্ত্র হওয়া উচিত- আও তো ওয়েলকাম, যাও তো ভিড় কম।

হৃদ: আরে সবাই যে তোর মতো শক্ত হৃদয়ের হতে পারে না রে বাবা। তবে আমি একটা ব্যাপারে প্রশান্তর সঙ্গে একমত- যে রিলেশনশিপে রয়েছও, সেটায় মন ঢেলে থাকো। আগে কী হয়েছে, হয়নি সেসব নিয়ে খামোখা মাথাব্যথা না বাড়ানোই ভালো। অনেক সময় দেখেছি, একটা ব্রেক আপের পরে বোথ বয়েজ অ্যান্ড গার্লস-ভালো রয়েছে।sex-1

অনির্বাণ: সমস্যাটা হয় শরীর নিয়েও। অনেকে নিজের প্রথম সেক্স-লাইফটা ইগনোর করে উঠতে পারে না। পরের সম্পর্কগুলোর মধ্যেই এক্স-কে খোঁজে। এটা কাম্য নয়। তুমি তোমার গার্লফ্রেন্ডকে সাফ জানিয়ে দাও, ভাই আমি আগে একজনের সঙ্গে সেক্স করেছি। কিন্তু খুব বেশিদূর যাইনি। তোমার সঙ্গে খানিকটা সময় থাকলে, আমি আগের সব কথা ভুলে যাবো। আমাকে সেটুকু সময় দাও।

প্রশান্ত: এটা বলতে গেলেই মার খাবি কিন্তু…****

(বিষয়টাই এমন যে এই আড্ডা শেষ হওয়ার নয়। ওদিকে অফিসে বসের কড়া ডেডলাইন। ফিরেই কপিটা লিখতে বসতে হবে। তাই আবারও না চাইতেও উঠে পড়তে হল জমাটি আড্ডার আসর ছেড়ে। আগামী সপ্তাহে আবার কোনও এক হটস্পটে তোমাদের গ্রুপের সঙ্গে দেখা হবে। তোমরাও যদি টিম ক্যাম্পাসের সঙ্গে আড্ডা দিতে চাও, তাহলে যোগাযোগ করো আমাদের ফেসবুক পেজে)