যদি ‘ওয়েদার’ কেনা যেত!!!

484

tanmoyবাসে বসে, রাস্তার ধারে আমাদের অনেক সমই মনে হয় “উফ্ ওয়েদারটা যদি কেনা যেত?” বাস্তবে এটা কোনও ভাবেই সম্ভব হয়ে ওঠে না৷ আর এই মনের মত আবহাওয়া পাওয়া-না-পাওয়ার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে মনের ইচ্ছার কথা ব্লগের আকারে লিখলেন তন্ময় চক্রবর্তী

weather2বাইরে কাঠফাটা রোদ্দুর, ঘরে ভ্যাপসা গরম৷বর্ষাটাও আসব আসব করে আর আসছেই না৷একটু আধটু দুষ্টুমি করলেও মামনি-বাবাইয়ের পায়ের রক্ত মাথায় উঠছে৷ মাথায় হাত বুলিয়ে, গল্প বলে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার বদলে ঠাকুরমাও কেমন খিটখিটে হয়ে গেছে৷ ছাদে খেলতে গেলেও অপেক্ষা সেই গোধূলি বেলার৷ কিন্তু, তারও উপায় নেই যে৷ বেজার মুখে হাজির গম্ভীর স্যার৷গ্রীষ্মের ছুটি পড়ে গেলেও নিকো পার্ক, সায়েন্স সিটির পথও মারাচ্ছে না বাড়ির কেউ৷ অগত্যা ছুটির দিনেও ঘরবন্দি৷ তাই, এটা কিনে দাও, ওটা কিনে দাও-আব্দারও করা হচ্ছে না৷ তাই রাতে খাবার টেবিলে বসে প্রশ্নটা করেই ফেলল টুকুন৷টিভি দেখে দেখে ওয়েদার, ক্লাইমেট এগুলি শব্দ তার কাছে পরিচিতই৷ তাই জিজ্ঞেস করেই ফেলল- বাবাই ওয়েদারটা কিনতে পাওয়া যায় না?

পাঁচ বছরের শিশুর এই জিজ্ঞাসার উত্তরে তার বাবাই যদি বলতে পারত হ্যাঁ৷যদি, এটা সত্যি হত৷যদি কেনা যেত ওয়েদার৷তাহলে কেমন হত? একেই তো ঋতুগুলির মতিগতির কোনও ঠিক নেই৷ নিজের আয়ূ শেষ হতে না হতেই দেহত্যাগ করা যাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে৷বসন্ত, হেমন্ত যে কখন আসে আর কখন যায় তা কবি, লেখকরা ছাড়া আর কেউ অনুভবও করতে পারে না৷স্বল্প সময়ের জন্য এলেও বসন্ত এখন আসে রোগভোগ নিয়ে৷ তাই, যখন যেমন চাই, তখন যদি সেরকমটা পাওয়া যেত৷

আপনার বাড়িটি যত স্কোয়ার ফুট, তত স্কোয়ার ফুট হিসেবে যদি কিনে ফেলা যেত ওয়েদার৷টিভিতে কেবল সংযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে যেমন অপশন থাকে৷ যত বেশি টাকা তত বেশি চ্যানেল৷আপনার বাড়িটি বেশি স্কোয়ার ফুট জমির উপর হলে বেশি টাকা লাগবে৷ কম হলে কম টাকা৷ অর্থাৎ, ফেলো কড়ি মাখো তেলের মতো ব্যাপার আর কী৷শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা যদি সব একসঙ্গে কিনে রাখতে চান তবে বেশি টাকা৷আর যদি দু’একটি চাই তাহলে কম৷অনেকে বলতেই পারেন, বেশি গরম পড়লে এসি কিনে নেব৷কিন্তু, হঠাৎ করে যদি ইচ্ছে করে ছাদে উঠে বৃষ্টিতে ভিজতে৷তখন? বা মনে প্রেম জেগে উঠল৷বসন্তের দেখা কি পাবেন?বা রাতে একটু গরম গরম খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করল ৷কিন্তু,  ওয়েদারটাই তো সঙ্গ দিচ্ছে না৷কী করবেন? বাইরে থেকে ঘেমে নেয়ে বাড়ি ফিরলেও একটা ভরসা তো অন্তত থাকত৷

প্রচণ্ড তাপদাহে বা শীতে মৃতের সংখ্যা এত ছাড়াল-এরকম ব্রেকিং নিউজের সংখ্যাও অনেকটাই কমে আসত ৷ওয়েদার কেনা গেলে আমার আপনার সুবিধাweather3 যেমন হতো, তেমন ভোটের আগে রাজনৈতিক দলগুলির ইস্তেহারেও দেখা মিলত এই বিষয়টির৷নির্বাচনী প্রচারে গলা ফাটানোর মতো একটা নতুন ইস্যু তাদের হাতে আসত৷ দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে জল, বিদ্যুৎ দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত বিনামূল্যে ওয়েদার দেওয়ারও৷সংখ্যালঘুদের জন্য ছাড় দেওয়ার কথা তো ঠোঁটে লেগেই থাকত৷ শুধু সাংবাদিক সম্মেলন, জনসভা, পথসভার অপেক্ষা৷ রাজনীতিকরাই শুধু নয় মিত্তল, আম্বানিরা কি এত বড় বাজার হাতছাড়া করতে চাইতো৷সরকারি পরিষেবার থেকে তাদের পরিষেবাও উঁচু মানের হতো তা বলাইবাহুল্য৷ আর নিঃসন্দেহে তারাও আরও ফুলে ফেঁপে উঠত৷সঙ্গে টুজি, কয়লার মতো আরও একটি কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসা হয়তো ছিল সময়ের অপেক্ষা৷গোয়েন্দাদের একটু কাজ বাড়ত আর বিরোধীদের হাতে আসত সরকার বধের অস্ত্র৷
আর গ্রিন হাউস গ্যাসগুলি যত দাপাদাপিই করুক, ক্লাইমেট যতই চেঞ্জ হোক৷ আমরাও বুক ফুলিয়ে বলতে পারতাম-চেঞ্জ আমরাও করতে পারি৷তাই কুছ পরোয়া নেহি৷ ‘বসুন্ধরা বৈঠক’ হয়তো হত কিন্তু এই শতাব্দীতে এসে ক্লাইমেট চেঞ্জ কনফারেন্স নিয়ে কেউ এত মাতামাতি করত না৷

শুনতে অবাস্তব বা ভাবতে অবাক লাগলেও স্বপ্ন সত্যি করতে গেলে স্বপ্নটা তো আগে দেখতে হবে৷আর আপনি না দেখলেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লক্ষাধিক টাকা পড়ে যাবে বলে যারা সাধারণ মানুষকে স্বপ্ন দেখায় তারা কি ভেবেছেন থেমে থাকবে?