“ইস্! যদি আমিও ডিস্কোতে যেতে পারতাম!”

1134

siddhu‘Boring’‘Monotonous’ ,  ‘Colourless’, ‘Passionless’ , সরকারি কর্মচারিদের নিয়ে এমন কতো বদনামই না শোনা যায়৷ কিন্তু সবাই কী সত্যি এরকম ? অন্তত দমদম সিঁথি মোড়ের বাসিন্দা কেন্দ্রীয় বস্ত্রশিল্প (ministry of textiles) দফতরের কর্মী রূপালি সামন্ত এই অনুযোগ মিথ্যে প্রমাণ করে দিতেই পারেন৷ কম্পিউটার সায়েন্সে গ্র্যাজুয়েশনের পরই চাকরিতে ঢুকেছিলেন৷ পড়াশুনার সঙ্গে আবার মডেলিং এবং অভিনয়ের জগতেও চুটিয়ে কাজ করেছেন৷ মাঝের কিছু বছর অবশ্য এই বিনোদনের জগত থেকে সম্পূর্ণ বাইরে থাকলেও, বর্তমানে চাকরি এবং মডেলিং দু’টোকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে করে চলেছেন তিনি৷ থেমে থাকেনি ‘Higher studies’-ও৷ সরকারি চাকরি পেয়েই জীবনের স্বপ্নের পাখির ডানা ভেঙে ফেলেননি রূপালি৷দফতরের ফাইল সামলেও স্বপ্নের পাখির খোঁজে প্রতিদিন সূর্য ওঠে তাঁর৷ এ সপ্তাহের ক্যাম্পাসের ‘ফেস অফ দ্য উইক’ রূপালি এতগুলো কাজ একসঙ্গে কীভাবে সামলান এবং আরও নানা বিষয় নিজের মতামত খোলাখুলি শেয়ার করলেন সিদ্ধার্থ সরকারকে৷

Pic: Siddharth Sarkar Location: The Sonnet, Kolkata
Pic: Siddharth Sarkar Location: The Sonnet, Kolkata

কলকাতা  24×7:  রূপালি তুমি এসপ্তাহের কলকাতা২৪x৭-এর ‘ফেস অফ দ্য উইক’৷ টিভি পর্দায় তোমার কাজ আমরা অনেক বছর ধরেই দেখেছি৷ কিন্তু অভিনয় এবং মডেলিং বাদেও তুমি চাকরি করছ,  সেইসঙ্গে মাস্টার্স৷ এতগুলো কাজ একসঙ্গে সামলাও কীভাবে?

Pic: Siddharth Sarkar Location: The Sonnet, Kolkata
Pic: Siddharth Sarkar Location: The Sonnet, Kolkata

রূপালি:  আমাকে এসপ্তাহে ‘ক্যাম্পাস ফেস অফ দ্য উইক’ বাছাই-এর জন্য ধন্যবাদ৷ আমি আসলে সব কাজই খুব যত্ন নিয়ে করতে ভালোবাসি৷ ইটিভি বাংলায় ‘জয়া’ সিরিয়াল থেকে অভিনয়ের জগতে পা রাখার পর একে একে ‘বিন্নি ধানের খই’, ‘সোনার হরিণ’-এর মতো ধারাবাহিকগুলোতে বেশ কয়েকটি চরিত্রে আমি কাজ করেছি৷ কিন্তু পড়াশুনাটা শেষ করতেই হত৷ তাই গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর মাস্টার্সেও ভর্তি হই৷ চাকরিটাও এর মধ্যে পেয়ে যাওয়াতে আরও ভালো হয়৷ তবে অফিসে কাজের চাপটা অতোটা বেশি নয় বলেই হয়তো ফের অ্যাক্টিং এবং মডেলিং প্রফেশনে কামব্যাক করতে পেরেছি৷ বেশ কয়েকবছর মিডিয়ার বাইরে থাকলেও মনের মধ্যে এই ইন্ডাস্ট্রিতে ফেরার ইচ্ছাটা সবসময়েই ছিল৷ স্টার জলসার ‘ঠিক যেন লাভ স্টোরি’ সিরিয়ালটাই আমার কামব্যাক বলতে পারেন৷

কলকাতা  24×7: তোমার hobbies কী কী?

রূপালি: আমার গান শুনতে, সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে ভালো লাগে৷ বই পড়তে একদমই ভালো লাগে না৷ কিন্তু সাজগোজ এবং ফটোশ্যুট করতে আমার সবচেয়ে ভালো লাগে৷ 

কলকাতা  24×7: আমাদের এসপ্তাহের ক্যাম্পাস-এর কভার স্টোরি হল ‘কলকাতার নাইট-লাইফ’৷ তোমার কাছে নাইট-আউট , পার্টি করার বিষয়টা কীরকম? তোমার জীবনে এগুলির গুরুত্বই বা কতটা?

rupali_campus_kolkata24x7_2
PC: Pratik Mondal

রূপালি: দেখুন ‘নাইট-আউট’ করা  বা ‘ডিস্ক’ যেতে আমার যে ভালো লাগে না,  তা নয়৷ কিন্তু এগুলি করার মতো সময় কই? সারাদিন কাজের পর আমি নিয়মিত জিম যাই৷ তারপর বাড়ি ফিরে খুব কম সময়েই হাতে থাকে৷ যদিও শনি-রবিবার দিনগুলোকে আমি আমার অন্যান্য কাজের জন্য রাখি৷ কিন্তু সেই দিনগুলোতেও পার্টি করার সুযোগ বা সময় খুব একটা পাই না৷ আর আরও একটা বড় সমস্যা হল কলকাতা শহরে বেশি রাতে বাড়ি ফেরার বিষয়টা৷ এখন অনেক ধরণের প্রাইভেট ক্যাব শহরে চালু হলেও ট্যাক্সি পাওয়াটা রাতে সত্যি কঠিন৷ তাই ইচ্ছে থাকলেও পার্টি করতে ডিস্ক যাওয়াটা হয়ে ওঠে না৷ বন্ধুরা ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে ছবি আপলোড করে৷ সেগুলোই দেখি আর ভাবি ইস! যদি আমিও যেতে পারতাম! আমার নাইট আউট বলতে দূর্গাপুজো৷ বছরের ওই পাঁচটা দিনই খালি সারারাত ঘোরার অনুমতি থাকে বাড়ি থেকে৷

কলকাতা  24×7: কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের ‘হানা-বাড়ির’ খবর নিশ্চয় আপনার জানা৷ কঙ্কাল-কাণ্ডের তদন্তে অনেক গুরুত্বপূ্র্ণ তথ্যের হদিস ইতিমধ্যেই পেয়েছে পুলিশ৷ পার্থ দে-র ডায়েরি পড়েও তিনি এবং তাঁর প্রয়াত দিদি দেবযানী দে-র ব্যক্তিগত জীবনের নানা তথ্য উঠে এসেছে৷ যেখানে তাঁদের মধ্যে একপ্রকার ‘incestuous relationship’-এর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷ এবিষয়টা আপনি কীভাবে দেখছেন?

রূপালি ভাই-বোনের সম্পর্ক আমাদের কাছে একটা পবিত্র সম্পর্ক৷ আমরা আসলে ছোটবেলা থেকে যেভাবে বড় হয়েছি, তাতে ভাই-বোনের মধ্যে এরকম কোনও অন্যরকম সম্পর্ক থাকতে পারে, সেটা ভাবতেই পারি না৷ হয়তো ওয়েস্টার্ন কালচারে এধরণের ঘটনা ঘটে থাকে৷ কিন্তু আমাদের কাছে এসব সত্যি এখনও ভাবনার উর্ধ্বে৷ পার্থ দে-কে তাই ‘Pscycho’ বলাটাই স্বাভাবিক৷ কারণ সেরকম না হলে এধরণের সম্পর্ক মেনে নেওয়া কঠিন৷

কলকাতা  24×7: আপনি মডেল, আপনি অভিনেত্রী৷ ফটোশুট করা আপনার অন্যতম হবি৷ তাই আপনি যে যথেষ্ট ফ্যাশনেবল, সেবিষয় কোনও সন্দেহ নেই৷ কী ধরণের পোষাক বা accessories  আপনার বেশি ভালো লাগে৷ আর কলকাতা  24×7-এর পাঠকদের আপনি কী ফ্যাশন টিপস দেবেন ?

Pic: Siddharth Sarkar Location: The Sonnet, Kolkata
Pic: Siddharth Sarkar Location: The Sonnet, Kolkata

রূপালি:  আমি না সাজতে ভীষণ ভালোবাসি৷ কোনও অনুষ্ঠানে যাওয়ার অনেক আগের থেকেই আমি মনে মনে ঠিক করতে থাকি কী পোষাক পরব৷ বন্ধুবান্ধব বা বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে কোথাও কোনও দারুণ ড্রেস বা অ্যাক্সেসরিজ চোখে পড়লেই হল৷ সেগুলো তারপর চটপট কিনে ফেলাটাই আমার স্বভাব৷ এছাড়া শপিং করতে আমার দারুণ লাগে৷ তাই যেকোনও ফ্যাশনেবল আউটফিট, তা সেটা পার্টি ড্রেস হোক কিংবা শাড়ি, আমার পছন্দ হলেই সেটা আমার ওয়ার্ডরোবে স্থান পেতে বেশি সময় নেয় না৷ এখন তো colourful-fashionable outfits-এর ছড়াছড়ি বাজারে৷ সুতির জিনিসই আমার বেশি পছন্দ৷ মডেলিং-এর জন্য বেশিরভাগ সময় অনেক মেক-আপ-এ থাকতে হয় বলে আমার এমনি সময় ক্যাজুয়াল থাকতেও ভালো লাগে৷ Capri-র সঙ্গে Cotton-top আমি বেশি পছন্দ করি৷ এছাড়া ‘junk jewelry ‘  জিনিসটা এখন ‘in’ ৷ খুব সিম্পল ড্রেসের সঙ্গেও এধরণের অ্যাক্সেসরিজ পরলে পুরো ‘লুকস’-টাই নিমেষে বদলে যায়৷

কলকাতা  24×7:  আচ্ছা এবার আসি একটু ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়৷ তুমি কি Single না committed?  কেমন ধরণের ছেলে তোমার বেশি ভালো লাগে?

রূপালি: (একটু কিছুক্ষণ চুপচাপ  থাকার পর) আমি বেশ কয়েক বছর ধরেই ‘mingled’৷ তবে শুধু বয়েফ্রেন্ড নয়, আমি আমার বন্ধুবান্ধুবদেরও যথেষ্ট সময় দেওয়ার চেষ্টা করি৷ আমি এমন মানুষকেই ডেট করতে পছন্দ করি বা ভবিষ্যতেও করব, যার মধ্যে sense of humour বিষয়টা দারুণভাবে রয়েছে৷ আর যে আমাকে সবচেয়ে ভালো বোঝে৷ আমি কিছু বলার আগেই যেন সে বুঝে যায় আমি কী চাইছি৷ আর আমার বেশ ভালো কোনও জায়গায় বসে আড্ডা মারতে বেশি ভালো লাগে৷ গঙ্গার ধারে বসে যে কোনওদিন ডেট করিনি, তা নয়৷ কিন্তু ভালো কোনও রেস্তোরা বা ‘Classy’  কোনও জায়গাই আমার Hangout  এবং dating-এর পছন্দের স্থান৷ 

rupali-1