তুমি-আমি আর কলকাতার রাত্রি রাই

678

প্রতিবেদন: বিশ্বজিৎ ঘোষ

রাত্রি, তুমি কেবল রাই নও৷ তুমি, আরও অনেক কিছু৷ যে কারণেই না তোমার সঙ্গে এত কথা! যে কারণেই না, তুমি এমন বান্ধবী, যার কাছে উজাড় করে দেওয়া যায় যাবতীয় আখ্যান!

রাত্রি, তুমি কেবল আবার রাই-ও নও৷ তুমি, আরও অনেক কিছু৷ যে কারণেই না, তুমি এমন মোহময়ী! তোমার এমন মাদকতা! যে কারণেই না, তোমার সঙ্গে এত প্রেম!

রাত্রি, তুমি রাই৷ তুমি প্রিয় বান্ধবী এবং চিরযৌবনা!

আর, রাত্রি, তুমি যদি হও কলকাতার, তাও যে তুমি সেই রাই-ই! যে কারণেই না তোমাকে মিস করে নয়া প্রজন্মও৷ তোমাকে কেবল খুঁজে বেড়ান কত তরুণ অথবা তরুণী! খুঁজেও পান, তাও আরও খুঁজে বেড়ান তাঁরা তোমায়!

তুমি, কেবল রাই নও রাত্রি৷ যে কারণেই না তুমি আবার, প্রিয়তম অথবা প্রিয়তমা, দুই-ই৷ আর, যে কারণেও না, তোমাকে নিয়ে এত উন্মাদনা!

কলকাতা যেমন দিনে দিনে আরও যুবতী হয়ে উঠছে, তেমনই, এই মহানগরীর তুমিও কেবলই আরও মোহিনী হয়ে উঠছো৷ আর, সেই কারণেও তোমার কাছে কত না কত ভাবে ঋণী হয়ে চলেছে এই শহরের নয়া প্রজন্মের অনেকেও৷ আর, সেই কারণে যে তুমিও  ক্রমে হয়ে উঠছো আরও ঋণী৷ এ যে কেবল তুমি রাই বলেই না!

যে কারণেও না, ক্যাম্পাসের কোলাহলও আর কেবল আবদ্ধ হয়ে থাকে না সেখানকার চৌহদ্দিতে৷ ক্যাম্পাসের সীমানা ছাড়িয়ে সেই কোলাহল কেবলই যেন ছুঁয়ে যেতে চায় তোমার শরীর! এই মহানগরীও ক্রমে কংক্রিটের জালে আরও আবদ্ধ হয়ে চলেছে৷ নাগরিক কোলাহল, যান্ত্রিক কোলাহল, কত রকম-ধরনের কোলাহল এখানে৷ আর, সে সবকে ছাপিয়ে, রাত্রি, কেবল তোমায় খুঁজে বেড়ান নয়া প্রজন্মেরও তোমার খাস কোনও প্রেমিক অথবা প্রেমিকা!kol

রাত্রি, কংক্রিটের সীমানা ছাপিয়ে যতটা নজরে আসে তোমার আকাশ, তাতে নয়া প্রজন্মেরও তোমার খাস কোনও প্রেমিক অথবা প্রেমিকাও যে হাতছাড়া করতে চান না তোমার ওই মুগ্ধতা৷ বরং, কলকাতার রাত্রি রাই, তোমার প্রতি যে আরও মুগ্ধ হয়ে ওঠেন তাঁরা!

এই মহানগরীর বিভিন্ন ক্যাম্পাস, তা সে যাদবপুর হোক অথবা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অন্যত্র৷ কতই না কোলাহল সে সব স্থানে৷ আর, তার উপর ক্যাম্পাসেরও রয়েছে রকম ফের৷ রাত্রি রাই, সে সব বিভিন্ন রকম-ধরনের ক্যাম্পাসের যাবতীয় কোলাহলেও যে থাকে তোমাকে খুঁজে বেড়ানোর অনুভূতি, তোমাকে খুঁজে বেড়ানোর সুখ-স্মৃতি, তোমাকে খুঁজে বেড়ানোর মোহ! রাত্রি রাই, ক্যাম্পাসের সকলেই যে তোমার প্রতি মুগ্ধ, তা নয়৷ তবে, তোমার প্রতি যাঁরা মুগ্ধ, তোমার মাদকতায় যাঁরা আচ্ছন্ন, বিভিন্ন ক্যাম্পাসের সেই তাঁরাও যে তোমারও রাই! এই মহানগরীতে তোমার কতই না রূপ! কত বৈচিত্র তোমার! কত বিচিত্র শোভা তোমার!

দিনের বেলায় যে পরিচিত রূপে অভ্যস্ত কলকাতা, রাত্রি রাই, তোমার জন্য সেই রূপেরও বদল ঘটে যায়৷ আর, এই মহানগরী তখন তোমার কোনও প্রেমিক অথবা প্রেমিকার কাছে যে আরও বেশি পরিচিত হয়েও যেন আরও বেশি রহস্যময় হয়ে ওঠে৷ তুমি যেমন মোহময়ী, রহস্যময়ী, তেমনই হয়ে ওঠে এই মহানগরীও৷ কত বিচিত্র রূপ তোমার! কত বিচিত্র শোভা তোমার! তীব্র দাবদাহের পর তোমার শরীরে যখন অঝোর ধারায় নামে বৃষ্টি, তখন যে তোমার মন এবং শরীর আরও সবুজ হয়ে ওঠো! শরৎ আর শীতের মাঝেও যে তুমি এখনও হেমন্তেরও খোঁজ দাও! তোমায় ছুঁয়ে এখনও কোথাও ডেকে ওঠে পেঁচা, এখনও কোথাও তোমায় ছুঁয়ে ঝরে পড়ে বকুল অথবা কুয়াশা মাখা শিউলি কিংবা কামিনীর পাপড়ি! সারমেয় দলের কোলাহল অথবা নিশ্চুপতার সাক্ষী রেখে যখন তোমার মাদকতা আরও বাড়িয়ে দেয় ছাতিম, আর, যখন, পলাশ অথবা শিমূলের পাপড়িও ঝরে পড়ে তোমার আঙিনায়, তখন কোনও ভবঘুরেও যে তোমায় আরও ছুঁয়ে এগিয়ে নিয়ে চলে তাঁর জীবন! অবশ্য, তোমার ওই সব রূপ-রস-গন্ধের অনুভূতি কেবল মাত্র তোমার রাই অথবা কোনও প্রেমিক কিংবা প্রেমিকাই বেশ অনুভব করতে পারেন৷ যাঁরা তোমার প্রেমিক অথবা প্রেমিকা হতে পারেননি অথবা পারেন না, তাঁদের কাছেও তুমি তখন এই মহানগরীতে রহস্যময়ী হয়ে ওঠো৷ তবে, সেই রহস্যময়তা অবশ্য তাঁদের মনে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে৷ তাতে তোমার আর কী দোষ বলো রাত্রি রাই!  যাঁরা রসিক নন, তাঁর বুঝবেন কেমন করে তোমার ওই মাদকতা!

কোনও ক্যাম্পাসের কোলাহলের কোনও অংশ যখন ফাঁকা ট্রামলাইন ছুঁয়ে খুঁজে চলে রাত্রি রাই তোমার শরীর, ফাঁকা কোনও ফ্লাইওভারে হাই স্পিডে যখন খুঁজে চলে তোমার শরীর, তা সে পার্ক স্ট্রিট-ধর্মতলা-ডালহৌসি হোক অথবা শ্যামবাজার-শিয়ালদহ কিংবা রাসবিহারী-গড়িয়াহাট-যাদবপুর-গড়িয়া-বেহালা-টালিগঞ্জ, তখন কত যে উপচে পড়ে বিচিত্র শোভা তোমার! তেমনই, বাবুঘাট অথবা গঙ্গার ধার বরাবর কোনও স্থান হোক কিংবা বউবাজার-শোভাবাজার৷

আর, তেমনই সল্টলেক, সেক্টর ফাইভ, নিউটাউন এবং উল্টোডাঙা হোক অথবা ইএম বাইপাস৷ আহা…! কতই না বিচিত্র শোভা তোমার! এমনই রহস্যময়ী শোভা তোমার, যা কেবলই মাদকতা ছাপিয়ে যায় অচেনা কোনও মাদকতার খোঁজে! এমনই রহস্যময়ী হয়ে ওঠো তুমি তখন কলকাতার রাত্রি রাই, তাতে কেবলই তুমি আরও কাছে টেনে নাও তোমার খাস কোনও প্রেমিক অথবা প্রেমিকাকে৷

princepরোজগার হোক অথবা নানা রকম-ধরনের কাজের জন্য অনেকেই ঘরে ফেরেন তুমি যখন গভীর হও৷ জরুরি কোনও প্রয়োজনেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে তোমার ওই গভীরতা সত্ত্বেও ঘরের বাইরে বের হতে হয়৷ তবে, তুমি যখন গভীর হও, সেই সময় কাজের শেষে ঘরে ফিরতে সকলের জন্য যে কর্মস্থল থেকে বাহন (যান)-এর ব্যবস্থা থাকে, তাও নয়৷ যে কারণে, কাউকে যেমন গাড়ি শেয়ার করতে হয়৷ তেমনই আবার কোনও কোনও স্থানে দেখা মেলে কোনও বাহনের৷ তবে, হাল আমলে হাতের মুঠোয় আবার বন্দিও হয়ে গিয়েছে ওই বাহনের ব্যবস্থা৷ স্মার্ট ফোনের সৌজন্যে নয়া প্রজন্মের একটি অংশ এখন ‘স্মার্ট’ হয়ে উঠছে৷ এবং, প্রয়োজনে এখন স্মার্ট ফোনেই তুমি গভীর হলেও ডেকে নেওয়া যেতে পারে বাহন৷

তবে, কেবল তো আর ঘরে ফেরাও নয়৷ রাত্রি রাই, এই কলকাতায় তুমি যখন ক্রমে আরও গভীর হয়ে ওঠো, তখন যে তোমার শরীরের খোঁজে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার মতো তোমার খাস কোনও প্রেমিক অথবা প্রেমিকা রয়েছেন এই মহানগরীতেও৷ রাত্রি রাই, তুমি গভীর হলে, ক্রমে আরও গভীর হয়ে উঠলে, যে মেয়ে অথবা মহিলা শরীর বিক্রি করেন তোমায় ছুঁয়ে অথবা তোমায় ছুঁয়ে শরীর বিক্রির জন্য সুযোগ খুঁজে চলেন, তিনিও যে তোমাকেও খুঁজে চলেন! এখন অবশ্য এই মহানগরীরও কোনও ছেলে অথবা পুরুষ তোমায় ছুঁয়ে বিক্রি করেন তাঁর শরীর৷ তাই, তুমি ক্রমে আরও গভীর হতে শুরু করলে, পার্ক স্ট্রিট, ধর্মতলা অথবা এই মহানগরীর অন্য কোনও অলি-গলি-রাজপথেও চলতে থাকে শরীর বিক্রির জন্য দরদাম৷ বউবাজার অথবা শোভাবাজার সহ কলকাতায় অন্য পল্লিও রয়েছে৷ তাও, তোমায় ছুঁয়ে, রাত্রি রাই, এই মহানগরীতেও এখন ক্রমে বেড়ে চলেছে কেবল শরীর আর শরীরের খেলা৷ মাদকতায় ভরা কলকাতার বিভিন্ন রকম-ধরনের নিশিযাপনে এখন অনেকেই অভ্যস্ত৷ তার জন্য রয়েছে নানা রকম-ধরনের ব্যবস্থাও৷

তবে, রাত্রি রাই, তুমি ক্রমে আরও গভীর হয়ে উঠলে, ক্রমে আরও ক্লান্ত হয়ে পড়ে এই মহানগরীর ফুটপাথ, ফ্লাইওভার থেকে শুরু করে আকাশ ছুঁতে চলা বিভিন্ন আবাসনও৷ আর, ক্লান্ত ওই ফুটপাথ, ফ্লাইওভার থেকে শুরু করে ওই সব আবাসনেও কেবল জড়িয়ে যেতে থাকে তোমার মাদকতা৷ সার দিয়ে স্থির হয়ে থাকা হাতে টানা রিক্সাগুলিও যেন ক্রমে আরও মায়াবী হয়ে ওঠে কেবল তোমার ছোঁয়ায়, তুমি ক্রমে আরও গভীর হয়ে উঠলে৷ রাত্রি রাই, আলো-ছায়া অথবা আঁধারির কোনও রাজপথ কিংবা অলি-গলিতে তুমি এমন মাদকতায় জড়িয়ে নাও যে, তোমার মোহে আবদ্ধ না হয়েও যে অন্য কোনও উপায়ও থাকে না তোমার কোনও খাস প্রেমিক অথবা প্রেমিকার৷ তেমনই আবার, রহস্যে ভরা ওই মাদকতায় ভর করেও যে তুমিও খুঁজে চলো তোমার খাস কোনও নতুন প্রেমিক অথবা প্রেমিকাকে!

streetরাত্রি, তুমি যত গভীর হও, ততই গভীর হয়ে ওঠে তোমার মাদকতা-রহস্যময়তা! তুমি যত গভীর হয়ে ওঠো, ততই গভীর হয়ে ওঠে তোমার মাদকতা-রহস্যময়তায় তোমার খাস কোনও প্রেমিক অথবা প্রেমিকার মুগ্ধতা৷ কেবল তো আর সুখস্মৃতি নয়, রাত্রি রাই, তোমার গভীর আঙিনায় সাক্ষী থেকে যায় মন খারাপের নানা স্মৃতিও৷ তুমি কেবল গভীর থেকে আরও গভীর হয়ে ওঠো, আর, তোমায় ছুঁয়ে এই মহানগরীর কোনও বহুতল অথবা ফুটপাথের ঘরেও নির্মিত হয়ে চলে রোজকার যাপনচিত্র৷ এমন নানা বিচিত্র শোভা, এমন বৈচিত্র আবার এড়াতেও পারেন না এই মহানগরীর বিভিন্ন ক্যাম্পাসের বহু ‘বাসিন্দা’৷ ক্যাম্পাস-জীবনেও রয়েছে এক ধরনের মাদকতা৷ তবে, ক্যাম্পাসের অনেক ‘বাসিন্দা’র কাছেই আবার ওই মাদকতাকে হারিয়ে দেয় তোমার মাদকতা৷

কেবল তো আর কলকাতার ফাঁকা কোনও ফ্লাইওভার অথবা রাজপথ কিংবা ইএম বাইপাসে চার অথবা দুই চাকায় ভর করে হাই স্পিডে সওয়ার হওয়াও নয়৷ বিভিন্ন রকম-ধরনের ক্যাম্পাসের নয়া প্রজন্মের ‘বাসিন্দা’দের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন, বদলে চলা এই দুনিয়ায় যাঁরা এখনও তোমার মাদকতায় মুগ্ধ হয়ে ওঠেন৷ তোমার প্রতি সে এক অন্য ধরনের অনুভূতি৷ সে এক অন্য ধরনের মাদকতা৷ আর, রাত্রি রাই, তোমার ওই মাদকতায় আচ্ছন্ন হতে তাঁরা খুঁজে নেন নানা রকম-ধরনের উপায়৷ তোমার গভীরতায় এই মহানগরীর নানা যাপনচিত্রের প্রভাবে কারও কারও ক্ষেত্রে গা ছম ছমও করে উঠতে পারে৷ তবে, তোমার খাস কোনও প্রেমিক অথবা প্রেমিকা অবশ্য তেমন নন৷ আবার এমনও হয়, তুমি গভীর হয়ে উঠলে, তোমার ছোঁয়ায় নিজেদের অথবা ভাড়া করা কোনও গাড়িতেও নিজেদের মধ্যে উষ্ণতার বিনিময় করে নেয় বহু যুগল৷

রাত্রি রাই, তুমি বেশ জানো, তুমি ক্রমে আরও গভীর হয়ে উঠলে, তোমার খাস কোনও প্রেমিক অথবা প্রেমিকা কীভাবে উপভোগ করে চলেন তোমার মাদকতা৷ তুমি বেশ জানো, তোমার রহস্য ক্রমে পরতে পরতে উন্মোচন করে, কীভাবে তোমার খাস কোনও প্রেমিক অথবা প্রেমিকা চুম্বনে চুম্বনে খুঁজে চলেন তোমার শরীরের আরও গভীরতা!