“বাঙালি তো কী, সেমি ন্যুড ফটোশ্যুটে আমার আপত্তি নেই!”

850

শ্যামবাজারের মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজ থেকে মুম্বইয়ের জুহু বিচ। বিদেশি ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসডরের কাজ সামলেও ‘রোগা হওয়ার সহজ উপায়’ সিনেমায় অভিনয়। দিনভর ব্যস্ততা সামলেও জুলাই মাসে ক্যাম্পাসের জন্য বিভাগীয় সম্পাদক দীপেন্দু পালের সঙ্গে মুম্বই থেকে টেলিফোনে আড্ডা দিলেন মডেল-অভিনেত্রী পারমিতা

ক্যাম্পাস: খাস উত্তর কলকাতার মেয়ে হয়েও মুম্বইতে ঘাঁটি জমানো- কতটা কঠিন এই রাস্তা?

পারমিতা: দেখো, আমি মুম্বইতে যাওয়ার আগে অনেকেই আমাকে বলত, যাস না। মানিয়ে নিতে পারবি না। এমনকী, আমার এক পরিচিত তো গলা নকল করে ফোন করে আমাকে ভয় দেখাত। কিন্তু বিশ্বাস করো, আমি এখানে এসে বুঝেছি, কতটা প্রফেশনাল এরা। কলকাতার থেকে নোংরামি অনেক কম। কাজ হয় দ্রুত। কেউ কাঠি করার জন্য মুখিয়ে থাকে না। কলকাতার উপর অনেক অভিমান রয়েছে।

ক্যাম্পাস: কলকাতার খবর রাখা হয়?

পারমিতা: কেন রাখব না? তোমাদের ওয়েবসাইটেও খবর পড়ি। কিন্তু খবরের কাগজ খুললেই আমার শহরের এত খারাপ খারাপ খবর দেখতে পাই, যে পড়তেই ইচ্ছে করে না।

ক্যাম্পাস: সম্প্রতি কোন খবর চোখ টানল?

পারমিতা: রানাঘাটে এক বৃদ্ধা সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণের খবরটা পড়ে শিউরে উঠেছিলাম। আর তারপর ওই কোন এক বাড়িতে নাকি কঙ্কালের সঙ্গে বাস করত একটা লোক। বাব্বা। ওখানে লোকজন এতটা ফ্রাস্টেটেড কেন হয়ে গিয়েছে? paro-4

ক্যাম্পাস: রোগা হওয়ার সহজ উপায়-এ কাজ করে কেমন লাগল?

পারমিতা: অঅসাম। সত্যিই বলছি, দেবালয়দার( দেবালয় ভট্টাচার্য) সঙ্গে কাজ করে আমি খুব কম্ফর্ট লেভেল পেয়েছি গো। আমি ওনার সঙ্গে আরও কাজ করার জন্য মুখিয়ে রয়েছি। সিনেমাটা নিয়ে অনেকেই অনেক নেগেটিভ কমেন্ট করলেও, আমি বলছি, সিনেমাটা গিয়ে দেখো, হাসতে হাসতে পেট ফেটে যাবে। শ্যুটিংয়েও খুব মজা হয়েছে। কিছু ‘সিন’ কেটে বাদ গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমি কাজ করে স্যাটিসফায়েড।

ক্যাম্পাস: কলকাতার মেয়ে হয়ে সেমি ন্যুড ফটোশ্যুট- কতটা কমফর্টেবল?

পারমিতা: দেখো, রিসেন্টলি লন্ডনে আমার একটা সেমি ন্যুড ফটোশ্যুট করার কথা থাকলেও শেষ পযন্ত আমি সময় বের করে উঠতে পারিনি। কিন্তু ট্রায়াল করেছি। আমার কোনও প্রহিবিশন নেই। জাস্ট ওয়ান পিসের সঙ্গে ডার্ক লিপস্টিক মেক-আপ। আই অ্যাম অন।

ক্যাম্পাস: কলকাতায় বসে সাক্ষাৎকারটা দিলেও এতটাই কনফিডেন্ট হতে পারতে?

পারমিতা: (শুধুই হাসি)

ক্যাম্পাস: একটু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে আসি…

পারমিতা: আমি অপেক্ষায় ছিলাম.. (আবার হাসি)

ক্যাম্পাস: ঠিক কিরকম ছেলের সঙ্গে ডেটে যেতে চাও?

পারমিতা: তোমার সঙ্গে যখন কলেজে পড়তাম, তখন আমার চয়েস ছিল অন্যরকম। আমি একটু মাচো ছেলেকে ‘ডেট’ করতে ভালোবাসতাম। সলমন খানের মতো চেহারা ও ফিজিক আমার ফার্স্ট চয়েস। সঙ্গে তাঁকে হতে হবে সেনসিটিভ, সফট স্পোকেন। মেয়েদের সম্মান দিয়ে কথা বলতে হবে। আর যেন বুলেট চড়ে আসে। জানো কি, আজ পর্যন্ত আমি বাঙালি ছেলে ছাড়া আমি কাউকে ডেট করিনি। paro-3

ক্যাম্পাস: কোন ধরনের ছেলেকে সহ্য করতে পার না?

পারমিতা: শো-অফ আর ওভার কনফিডেন্ট ছেলেদের আমি দু চোখে দেখতে পারি না। নতুন ঘড়ি হোক বা বাইক-সবসময় সেদিকেই বেশি মন দেবে। এমন ছেলেও দেখেছি, যে নতুন ঘড়ি কিনেছে বলে গোটা ডেটে ওই ঘড়িটার দিকেই তাকিয়ে কথা বলে গেল। আর এরা ভাবে যে কোনও মেয়েকে চাইলেই এরা বিছানায় নিয়ে যেতে পারে। ডিসকাস্টিং।

ক্যাম্পাস: ক্যাম্পাসের এবার ইস্যুতে পোশাক বিতর্কটা হাইলাইট করা হয়েছে। স্কুলের গণ্ডী ছাড়িয়ে কলেজ-ইউনিভার্সিটিতেও ইউনিফর্ম চালু করাটা উচিত বলে মনে হয়?

পারমিতা: দেখো, কলেজটা মডেলিংয়ের জায়গা নয়। ফ্যাশন র‍্যাম্প আর কলেজের ক্যাম্পাসের মধ্যে একটা বেসিক তফাৎ রয়েছে। এটা পড়ুয়াদের মাথায় রাখতে হবে। আর কলেজ-কর্তৃপক্ষকে মাথায় রাখতে হবে, কলেজটা আশ্রম নয়। ছেলেমেয়েরা একটু ফ্যাশনেবল তো হবেই। আসলে বিষয়টা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও মনোভাবের উপর নির্ভরশীল। সেন্ট জেভিয়ার্সে যে ড্রেসটা সহজেই ক্যারি করা যায়, বসিরহাটের কলেজে সেটা পড়ার আগে বেশ কয়েকবার ভাবতে হবে।

ক্যাম্পাস: স্কটিশ চার্চে মেয়েদের কোটেশন লেখা টিশার্ট পরার উপর একটা ফতোয়া জারি হয়েছিল..

পারমিতা: (একটু উত্তেজিত হয়েই) অ্যাবসার্ড। আমি তো বলব, কলেজের পরিবেশ, ইন্টেরিয়র, হাইজিনের দিকে নজর দিন। অনেক কলেজ দেখেছি যাদের ক্যান্টিনের খাবার দেখলে গা গুলিয়ে ওঠে। অনেক কলেজের লেডিস টয়লেটে জাস্ট যাওয়া যায় না এত নোংরা। সেদিকে নজর দিন। দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষই এখনও উচ্চশিক্ষা পায় না। সেদিকে নজর দিন। পরে এসব পোশাক ফতোয়া জারি করবেন।

ক্যাম্পাস: এবার একটা কথা ফাঁস করে দিই?

পারমিতা: আমি জানি তুমি কি বলবে…. (হাসি) paro-5-

ক্যাম্পাস: কবে বিয়ে করছো?

পারমিতা: খবরটা ক্যাম্পাসেই ফাঁস করছি- আমি রিসেন্টলি এনগেজড হয়েছি। ও আমার জীবনে সবথেকে বড় গিফট বলতে পার। হি ইজ সাচ আ নাইস পার্সন। খুব ডিসেন্ট, মডেস্ট, ডিসিসিন মেকার।

ক্যাম্পাস: নায়িকা-মডেলদের বিয়ের কথা ফাঁস হয়ে গেলে কিন্তু বাজারদর কমে যায়।

পারমিতা: (ফের হাসি) তুমি তো জানোই আমি বরাবর আউট অফ দ্য বক্স। এসব কেয়ার করি না। আর আমি যে সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসডর, সেটা আমারই হবু বরের সংস্থা। আমি নেক্সট মানথেই শ্যুটিংয়ে বিদেশে যাচ্ছি। তাই কাজ হারানোর ভয় এখনই নেই।

ক্যাম্পাস: তোমার ফটোশ্যুট-মডেলিং-বিকিনি শ্যুট- তোমার উড বি হাসব্যান্ড কতটা কমফর্টেবল?

পারমিতা: আরে তোমায় বললাম তো, ও ভিষণ কিউট। আসলে ও আমেরিকান। তাই আমার শ্যুট নিয়ে ও কখনই বিরোধীতা করে না। আমি একটা ড্রেসের সুতোটুকুও কিছু হলে ওর সঙ্গে ডিসকাস করি। অ্যান্ড হি ইজ মাই বেস্ট অ্যাডমায়ারার।

এই বিভাগের আরও প্রতিবেদন পড়ুন-

‘ব্র্যান্ড হল একটা লোগো, যা আমরাই তৈরি করেছি’

“ইস্! যদি আমিও ডিস্কোতে যেতে পারতাম!”

“Conventional সুন্দর দেখতে ছেলে আমার একদমই পছন্দ নয়”

“আমাকে যে ডেট করবে, তাকে অধৈর্য হলে চলবে না”

“আমার কাছে কোন ফ্যাশনটা ‘ইন’ আর কোনটা ‘আউট’ সেটা বড় কথা নয়”