পোশাকে স্বাধীনতা কর্পোরেট জগতে

614
সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়
সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়

কর্পোরেট জগতে কোট প্যান্ট স্যুটের ফ্যাশনকে কিছুটা ব্যাকফুটে ফেলে সামনে এগিয়ে আসছে সেমি-ফর্ম্যাল ও কুল আউটফিট৷ তবে সেটা হতে হবে শালীনতা বজায় রেখে৷ কর্পোরেট দুনিয়াযর অফিস কালচার বজায় রেখে ‘ক্যাজুয়াল’, ‘বিজনেস ক্যাজুয়াল’, ‘ফর্মাল’, ‘সেমিফর্মাল’ ইত্যাদি শব্দের প্রকৃত অর্থ কী? লিখলেন সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়

প্রতিদিনই অফিসে জিনস কিংবা টি শার্টের মতো যে কোনও পোশাক পরে যেতে আর বাধা যদি না থাকে তাহলো তো বেশ হয়৷ অনেকেরই প্রশ্ন- কেন কাজের জায়গায় কোট-টাই পড়ে যেতে হবে৷ সেই বাধা এখন অবশ্য কিছুটা কাটছে ৷ বিভিন্ন সংস্থাই এখন পোশাক বিধির ক্ষেত্রে আর আগের মতো রক্ষণশীল থাকতে চাইছে না৷ ড্রেস-কোড ক্রমশ শিথিল হচ্ছে ৷ তবে যেমনই পোশাক পরুন না কেন তা যেন শালীনতা বজায় থাকে কোনও ভাবেই দৃষ্টিকটু না হয়৷ বিশেষ করে এখন কর্মজগতে মহিলাদের আধিপত্য ক্রমশ বাড়ছে ফলে পোশাকের শালীনতা নিয়ে জটিলতা বাড়ছে ৷ তাছাড়া এই শালীনতার মাত্রা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়, কারণ কখন শালীনতার সীমা ছাড়াচ্ছে আর কখন নয় তা নিয়ে বিতর্ক থামতে চায় না৷ এদিকে আবার বিভিন্ন সংস্থা তাদের পোশাক বিধির নির্দেশিকায় দেওয়া থাকে – ‘ক্যাজুয়াল’, ‘বিজনেস ক্যাজুয়াল’, ‘ফর্মাল’, ‘সেমিফর্মাল’ ইত্যাদি শব্দ৷ যদিও অনেক সময় এই শব্দগুলির অর্থ কি তা স্পষ্ট বলা থাকে না এবং ফ্যাশন দুনিয়ার পরিবর্তনের প্রভাবে পোশাকে সংজ্ঞা বদলের যাওয়ায় এই বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায়৷

ইনফোসিস কর্তা বিশাল তাঁর পূর্বসূরিদের মতো না হয়ে টি সার্টেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন৷

office-wearতবে কর্পোরেট জগতেও ড্রেস-কোড বা পোষাক বিধির শাসনের কারণটা বোঝা দরকার৷ এই পোশাক বিধির মাধ্যমে সংস্থা বুঝিয়ে দিতে চায় কারা সেখানকার কর্মী আর কারা নয়৷ অর্থাৎ পোশা৷কে মাধ্যমে কর্মীদের চেনার একটা প্রয়াশ থাকে ৷ বহু ক্ষেত্রে কর্মীদের জামায় সংস্থার লোগো ব্যবহার করতে দেখা যায়৷ বিশেষ করে বহু কারখানায় শ্রমিকরা কাজের সময় বিশেষ পোশাক পরেই কাজ করে আর সেই জামায় কালি ঝুলি লাগে৷ ফলে কারখানায় ঢুকে সেই পোশাক পরে নেয় এবং কারখানা থেকে বের হওয়ার সময় তা ছেড়ে আবার নিজেদের মতো পোশাক পড়ে বাড়ির দিকে রওনা দেয়৷ তাছাড়া পোশাক বিধির মাধ্যমে কোম্পানিটি বহির জগতে তার নিজস্ব একটা ইমেজ গড়ে তোলার চেষ্টা করে৷ পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কারণেও ড্রেস-কোড চালু রাখার প্রবণতা থাকে সংস্থার৷ যেমন কারখানার ভিতর হেলমেট, বিভিন্ন ধরনের মাস্ক, রঙিন চশমা ইত্যাদি পরে নিতে হয় নিরাপত্তার জন্য৷

কিছু সংস্থা কর্মীদের সেমি ফর্মাল অথবা ক্যাজুয়াল পোশাক অনুমোদন করেছে কারণ সেই সব সংস্থাও অনুভব করেছে কর্মীদের অফিসের বাইরে ‘ক্লায়েন্ট- মিটিং’ করতে হলে পোশাকেও স্বাধীনতা দরকার

প্রসঙ্গত,নিজের খুশি মতো পোশাক পরার ক্ষেত্রে সম্প্রতি আর কোনও বাধা রইল না ইনফোসিস কর্মীদের৷ কারণ অফিসে আসার ক্ষেত্রে পোশাকের রক্ষণশীলতা পুরোপুরি তুলে দিয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান এই তথ্যপ্রযু্ক্তি সংস্থাটি ৷ কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে এবং তাদের সংস্থা ছেড়ে যাওয়া আটকাতে সংস্থা এমন পদক্ষেপ করেছেন বলে জানিয়েছেন সংস্থার সিইও বিশাল সিক্কা৷ ১জুন থেকেই এই ব্যবস্থা চালু হচ্ছে বলে ই-মেল মারফত বিভিন্ন কর্মীকে জানানো হয়েছিল৷ আগে নিয়ম ছিল শুধু মাত্র শুক্রবার কর্মীরা যে কোনও পোশাক পরতে পারতেন৷ কর্মী ও বিভিন্ন মহল থেকে এই বিষয়ে অনুরোধ আসায় সংস্থা এমন সিদ্ধান্ত নেয়৷ সংস্থা মনে করে প্রতিটি কর্মীরই অধিকার রয়েছে যে তাদের পোশাকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার৷ ইনফোসিস কর্তা বিশাল তাঁর পূর্বসূরিদের মতো না হয়ে টি সার্টেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন৷corporatemain

গত বছরই বিশাল কর্মীদের অনুরোধের কথা চিন্তা করে টাই পরার বিষয়ে সংস্থা এতদিনের নিয়ম শিথিল করে দিযেছিল৷ ইনফোসিসের প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা টিসিএস উইপ্রো অবশ্য কর্মীদের পোশাকের বিষয়ে নিয়মের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র শুক্রবারই ছাড় দিয়েছে৷ তবে কগনিজেন্ট দু’বছর আগেই এই নিয়ম শিথিল করেছে৷ তাছাড়া আরও কিছু সংস্থা কর্মীদের সেমি ফর্মাল অথবা ক্যাজুয়াল পোশাক অনুমোদন করেছে কারণ সেই সব সংস্থাও অনুভব করেছে কর্মীদের অফিসের বাইরে ‘ক্লায়েন্ট- মিটিং’ করতে হলে পোশাকেও স্বাধীনতা দরকার৷