“বয়ফ্রেন্ড হতে চাইলে DSLR থাকতেই হবে”

706

বয়ফ্রেন্ড হতে চাইলে কোন কোন কোয়ালিটি মাস্ট?

এই প্রশ্ন নিয়েই টিম ক্যাম্পাস হাজির হয়েছিল মনি স্কোয়্যারের ম্যাকডোনাল্ডসে। আজ পাওয়া গেল একদল প্রমীলা বাহিনীকে। প্রথমে আলাপ, পরে ক্যাম্পাসের জুলাই মাসের আড্ডাবাজের বিষয়টা ব্যাখ্যা করতেই গ্রুপে হৈ হৈ পরে গেল। কে আগে বলবে, কে পরে, হাতাহাতি শুরু হল বলে। শেষমেশ শান্ত করে তাদের সকলের বক্তব্য পরপর সাজিয়ে দেওয়া হল ক্যাম্পাসের পাতায়। দলটিকে শান্ত করে আড্ডাবাজের জন্য আড্ডাটি এডিট করলেন ক্যাম্পাসের সহ-সম্পাদক দীপেন্দু পাল।

রৌলিনা নন্দী

(কলেজে ফার্স্ট ইয়ার, গ্রুপের সবচেয়ে অ্যাট্রাকটিভ, টকেটিভও বটে। সুন্দরী বলে ওর কথা সবাই একটু বেশিই মন দিয়ে শোনে)

রৌলিনা: আমার বয়ফ্রেন্ড হবে যে আমার কাছে সবসময় ট্রান্সপারেন্ট থাকবে। আমার সবচেয়ে খারাপ সময়েও যে আমার পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে সাপোর্ট করবে।

সৌমিতা হালদার

(নজরে পড়ে ওর চোখদুটো। সবসময় ছটফট করছে। সালোয়ার-কামিজেও দৃপ্ত)

সৌমিতা: সবথেকে দরকারি আমার বয়ফ্রেন্ডকে সেনসিটিভ হতেই হবে। আমি বহু রিলেশনশিপ দেখেছি, যেখানে ছেলেটি তার প্রেমিকাকে অবান্তর আক্রমণ করে চলেছে, মেয়েটি কাঁদছে দেখে সে আরও মজা পাচ্ছে।

ঋত্বিকা বণিক

(নামের মতোই সনাতনী ধ্যান ধারনা। এরকম মেয়ের চোখে চশমা থাকলে বেশ হত। এর যদিও নেই।) selfie-edited

ঋত্বিকা: আমি একটা কথাই বলতে চাই, বয়ফ্রেন্ড হলেই তাঁকে আমার ছবি তুলে তুলে আমার প্রোফাইলে অ্যালবাম আপলোড করতে হবে এমনটা নয়। আমি এই দৃশ্য দেখে দেখে বোর হয়ে গেছি। প্রেমিকাকে কী নির্লজ্জের মতো এরা শো অফ করায় এরা। এক হয়েছে ডিএসএলআর, আর এক হয়েছে পিকাসা বা ফটোশপ- কালো মেয়েকে ফর্সা করে, মোটাকে রোগা করে ফেসবুকে আপলোড করাটা দৈনন্দিন হ্যাবিট হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেক ছেলের।

সৌমিতা: দেখ, এটা ভুল বলছিস। একতরফা আক্রমণ হয়ে যাচ্ছে। অনেক মেয়েও কিন্তু শুধু নিজের কয়েকটা ভালো-সুন্দর ছবি তুলবে বলেই ছেলে পটায় অনলাইনে। আমাদের কলেজের রূপসাকে মনে নেই…? (হাসির হিল্লোল ওঠে গ্রুপে)

রৌলিনা: একা রূপসা কেন, আমিও অনেক মেয়েকে চিনি যারা এরকম করে। দ্যাখ, এগুলো প্রি ম্যাচিওর বয়সের রিফ্লেকশন। একজন সেলফ ডিপেন্ডেড মেয়ে কখনই শুধুমাত্র বয়ফ্রেন্ডের ছবি তোলার কোয়ালিটি দেখে প্রেমে পড়ে না। আমারই এক বান্ধবী ছিল। ছেলেটার নাম ছিল অরিজিৎ। প্রেমে পড়া ওর ছবি তোলার হাত দেখে। তারপর একবছরের মধ্যে ব্রেক আপ। কারণটা শুনবি, ছেলেটা অন্যান্য মেয়েদেরও একইরকম ছবি তুলে বেড়াত। selfie-edi-4

ঋত্বিকা: যে প্রেমের ভিতটাই নড়বড়ে, সে প্রেম আবার প্রেম নাকি? আর এই ধরনের ছেলে আজকাল বাজারে ফ্যা ফ্যা করে ঘুরছে। বাবার টাকায় ক্যামেরা কিনে, বাড়িতে এডিট করে মেয়ে পটানোর ধান্দায় ঘোরে।

সৌমিতা: আমি একজনকে চিনি, যে আমাকে অনেকবার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েও লাভ হয়নি দেখে আমাকে একদিন মেসেজ করল- তোমার ফেসটা খুব সুন্দর। আমি তোমার ফটোশ্যুট করতে চাই। সাহস কত বড় বলে কি না, তোমার সেমি ন্যুড ফটোশ্যুট করব। দিয়েছিল ব্লক করে।

(আড্ডা সেশন শেষ বললেও কে শোনে কার কথা? আড্ডার পরেই সেলফি তোলার হিড়িক। থুরি গ্রুফি। জানি টিম ক্যাম্পাস অফিস পৌঁছানোর আগেই সে সব আপলোড হয়ে যাবে। আগামী সপ্তাহের আড্ডাবাজরের আগে সেই সব ছবিতে কটা লাইক পড়ল-গুনে দেখব।)

এই বিভাগের আরও প্রতিবেদন পড়ুন-

সমকামী বিবাহে সম্মতি মানেই রামধনু প্রোফাইল পিকচার নয়

“এক্স ইক্যুয়েলস টু প্রেম ধরে কষে মেলেনি প্রেমের অঙ্ক”

“কালো কাঁচে ঢাকা পর্নস্টার চলছে না, চলবে না”

৭৩ পেরিয়েও অ্যালবার্ট হলের শিরদাঁড়া এখনও টানটান