সাহসী পোশাকের বিপ্লব থেকে মৌলিক অধিকার

665

একেবারে আদিম যুগে কোনও পোশাকের চল ছিল না৷ কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পশুদের থেকে নিজেকে আলাদা করতে এবং লজ্জা নিবারণের জন্য মানবজীবনে পোশাক এসেছে ৷  কাজের সুবিধার জন্য, আবহাওয়ার বৈরিতা থেকে শরীরকে রক্ষা পেতে পোশাকের প্রয়োজন হয়েছে।

রানা দাস সম্পাদক-kolkata24x7
রানা দাস সম্পাদক-kolkata24x7

প্রথমে লতা পাতা দিয়ে শরীর ঢাকার কায়দা শুরু হলেও পরে পরিধানের এই বস্তুটি কোনও অর্থেই সীমাবদ্ধ থাকেনি৷ সময়ের তালে তালে সেখানেও বিবর্তন ঘটেছে ৷ দেশ, ধর্ম, সংস্কৃতির প্রভাব পড়েছে পোশাকে ৷ পরিধানের এই বস্তুটির মাধ্যমে সামাজিক মর্যাদাও প্রতিফলিত হয়ে থাকে ৷ বর্তমানে দুনিয়া জুড়ে পোশাককে নিয়ে একটা বড় বাজার গড়ে উঠেছে আর একে কেন্দ্র করে ফ্যাশনের জগতেও একের পর এক বিপ্লব ঘটে যাচ্ছে ৷ শরীর ঢাকার বদলে এখন আবার স্বল্পবাস পোশাক পরে জন সমক্ষে বেরিয়ে আসছেন এখন নারী-পুরুষ৷ বিনোদন বিপণনের বস্তু হয়ে পড়ছে বস্ত্রহীন নারীদেহ৷ এমন ঘটনাকে কেউ ‘অশ্লীল’ অ্যাখ্যা দিলেও কারও কাছে সেটাই সাহসী পদক্ষেপ৷      fashion-3

স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের কিংবা কারখানায় শ্রমিকদের একইরকম পোশাক বা ইউনিফর্মে দেখা যায়৷ একই রকম ভাবে হাসপাতালে নার্স বা ডাক্তার আবার আদালতে উকিলদের বিশেষ পোশাকে দেখা যায়৷ আসলে এই ইউনিফর্ম অথবা বিশেষ পোশাকের মাধ্যমে তাদের অন্যদের থেকে আলাদা করে চেনায়৷ আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে নিরপাত্তাজনিত কারণে হেলমেট, মাস্ক ইত্যাদি পরেই কাজের জায়গায় ঢুকতে হয়৷ পোষাককে ভিত্তি করে বিধি নিষেধ এসে গিয়েছে সমাজে ৷ আর এই বিধি নিষেধ ঘিরে মানুষের চিন্তা-ভাবনার পাশাপাশি প্রশ্নের শেষ নেই ৷ এর জেরে মাঝে মধ্যেই পোশাক বিতর্ক দানা বাধ দুনিয়াজুড়ে নানা প্রান্তে ৷ এমতাবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মক্ষেত্রে পোষাকবিধি কেউ চালু করতে চাইলে গর্জে ওঠে একদল মানুষ ৷ তাঁদের মনে আতংক দানা বাধে- এমন নির্দেশিকার আড়ালে পোশাকের শৃঙ্খলা দিয়ে কোনও বন্ধনে জড়িয়ে ফেলার অভিপ্রায় রয়েছে কি না! শুধু তাই নয় পোশাক-বিধি উঠলে পাল্টা প্রশ্ন এসে যায় মৌলির অধিকার নিয়েও৷