লোকালে লোকালে জলযোগ-টিফিন

480
অভিজিৎ দাস
অভিজিৎ দাস

কলকাতা। আর কলকাতার লাইফলাইন বলতে যেটা প্রথমেই বোঝায় তা হল কলকাতার মেট্রো। কিন্তু যতই মেট্রো কলকাতার লাইফলাইন হোক, শহরতলি থেকে আসা লোকাল ট্রেন ও চক্ররেলও এই শহরের হৃদস্পন্দন সচল রাখতে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে। বাড়ি থেকে অফিস, আবার অফিস থেকে বাড়ি। প্রতিনিয়ত কয়েক লক্ষ মানুষ লোকাল ট্রেনের উপর নির্ভরশীল। কলকাতার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের যোগাযোগ স্থাপন করে যে দুটি শাখা তা হল হাওড়া ও শিয়ালদহ। প্রতি দিন হাজার হাজার মানুষ এই দুটি স্টেশনের মাধ্যমে নিজের নিজের গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছেন আবার সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরছেন।

কিন্তু আপনি যখন সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরে আসেন, তখন ট্রেনে উঠলেই সেই পরিচিত ঝালমুড়িওয়ালার ডাক, বা বাদামওয়ালার পরিচিত সুর ভেসে আসে কানে। বাড়ি ফেরার সময় একটু ঝালমুড়ি খেতে খেতে, বাড়ির লোকজনের জন্য বাদাম বা চানাচুর নিতে কার না ভালো লাগে। আর এটাই কলকাতার শহরতলির ট্রেনের বৈশিষ্ট্য।

ediblesএবং শুধুমাত্র ঝালমুড়ি বা বাদামের মধ্যেই আটকে থাকে না লোকাল ট্রেনের খাবার। ছোট ছোট বাচ্চাদের জন্য মন ভোলানো জেলি লজেন্স, শোনপাপড়ি থেকে শুরু করে আমলকী। সবই পাবেন আপনি এখানে। আর এই লোকাল ট্রেনে যারা যাতায়াত করেছেন, তাদের কাছে গরম দিলখুশ নামটা খুবই পরিচিত। প্লাস্টিকের মোড়কে সেই গরম দিলখুশ একবার খেলে সারাদিনের কাজের ধকল নিমেষের মধ্যে উবে যেতে বাধ্য। এছাড়া কম্পার্টমেন্টে বাদামওয়ালার কাছে পেয়ে যাবেন ভ্যারাইটির বাদাম। এবং শুধু বাদাম নয়, পেয়ে যেতে পারেন ডালমুট, কাঠিভাজা থেকে শুরু করে নিমকি, চিড়েভাজাও।

আবার খুব গরমে যখন হাঁসফাঁস অবস্থা, দম বন্ধ হয়ে আসছে, তখন শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে পেয়ে যেতে পারেন প্যাকেটের লস্যি বা আমপোড়া সরবত। এছাড়া পেপসি তো রয়েইছে।

সন্ধ্যাবেলা বাড়ি ফেরার সময় যদি মনে হয় রাতের ডিনারের পর ফল খেতে হবে, তাহলে এই ট্রেনগুলিতে সেই ব্যবস্থাও রয়েছে। কলা থেকে কমলালেবু, সব কিছুই আপনি পাবেন এখানে। তবে হ্যাঁ, যাচাই করে কেনাটাই শ্রেয়, না হলে ঠকে যাওয়ার চান্স রয়েছে।

soan-papri

হাওড়া সেকশনে যদি যাতায়াত করেন, তাহলেও ব্যান্ডেল স্টেশনে ট্রেন থামার পর পেয়ে যেতে পারেন গরম সিঙাড়া বা কচুরি। এছাড়া হরেক রকমের মিষ্টি তো রয়েছেই। মূল্য অতি সামান্য। এই সব খাবার দিয়ে সকালের দিকে আসার সময় সহজেই সেরে ফেলতে পারেন আপনার জলযোগ। বর্ধমানের দিকে গেলে শক্তিগড় থেকে পেতে পারেন স্পেশাল ল্যাংচা। আর বর্ধমান মানেই তো সীতাভোগ, মিহিদানা৷ওদিকে শিয়ালদহ মেন লাইনে কষ্ট করে কৃষ্ণনগর, মানে সরভাজা আর সরপুরিয়া৷বনগাঁ লাইন মানেই মাখা সন্দেশ, অনবদ্য স্বাদ৷ আবার দক্ষিণ-পূর্ব রেলে মেচেদা, পাঁশকুড়া, খড়্গপুর, মেদিনীপুর লোকালে উঠলেই গরম গরম তেলেভাজা, সিঙাড়া৷তাছাড়া তো কমন ফ্যাকটর ঝালমুড়ি তো রয়েইছে৷ তার চাইতেও কম পয়সায় মিলতে পারে মটর সিদ্ধ-মুড়ি৷এ রকম একঠোঙা মুড়ি, সেইসঙ্গে দুটো মেচেদার সিঙাড়া কিংবা আলুর চপ৷আর কী চাই!

 – অভিজিৎ দাস