রাজনীতিতে বন্ধু

419
রাজনীতিতে বন্ধুত্বের ভাঙা-গড়া

কথায় বলে রাজনীতিতে চিরশত্রু বা বন্ধু বলে কিছু হয় না৷ দেশে থেকে দেশান্তরে সে কথা অজানা নয়৷ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতির জগতে বদলে যায় বন্ধুত্বের সমীকরণ৷ আর সে কথা ঘরে বাইরে একই ভাবে প্রযোজ্য ৷ ইতিহাসের পাতা উল্টে একেবারে  দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে তাকালে মনে পড়বে জার্মানিকে শায়েস্তা করতে কমিউনিস্ট রাশিয়াকে সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকা ও বৃটেনের হাত ধরতে হয়েছিল ৷ আসলে সে সময় হিটলারের বাড়বাড়ন্তের ফলে তিনি হয়ে উঠেছিলেন রুজভেল্ট চার্চিলের পাশাপাশি স্টালিনেরও শত্রু ৷ অর্থাৎ শত্রু শত্রুর মিত্র এই সমীকরণ মাথায় রেখেই আমেরিকা- রাশিয়া- বৃটেন একসূত্রে মিলেছিল সেদিন৷

আর স্থান কাল পাত্র ভেদে শাসক বিরোধী সম্পর্ক যে নতুন বন্ধুত্বের সমীকরণ তৈরি করতে পারে তা ক’দিন আগে দিল্লিতে দেখিয়েছেন বাংলার সাংসদরা৷ রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক যাই হোক না কেন দিল্লিতে অধীর চৌধুরীর পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে সৌগত রায় এবং মহম্মদ সেলিমকে৷

তবে বিশ্বের দিকে তাকাতে হবে না ঘরোয়া রাজনীতি আঙিনায় ঢুকলেও রাজনৈতিক বন্ধু বদল এবং পাতানোর  উদাহরণ রয়েছে ঝুড়ি ঝুড়ি৷  এটা ঠিক দলীয় নির্দেশ অমান্য করে পঞ্চায়েত বা নিচু তলায় মাঝে মাঝে আতাত হয়ে যায় চরম বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেও৷ তবে শুধু নিচের তলায় বললে ভুল হবে উপরে উপরে রাজনৈতিক সমঝোতার অনেক উদাহরণই রয়েছে ৷ দিল্লির রাজনীতিতে  কখন যে কোন দল কংগ্রেস বা ইউপিএ-কে সমর্থন করছে আর কখন বিজেপি বা এনডিএ জোটসঙ্গী হয়েছেন তা মনে রাখতে সত্যিই হিমশিম খেতে হয়৷ বহুক্ষেত্রে এই বন্ধুত্বের পিছনে কোনও নীতি বা ইস্যু কাজ করেছে আবার কোনও কোনও সময়ে জোটসঙ্গী করা হয়েছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য ৷

 এক ফ্রেমে কংগ্রেস সহ সভাপতি রাহুল গান্ধী, তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌগত রায়
এক ফ্রেমে কংগ্রেস সহ সভাপতি রাহুল গান্ধী, তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌগত রায়

কমিউনিস্টরা বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক শক্তি বলে অভিযোগের আঙুল তুললেও একসময় তারাই আবার রাজীব গান্ধীকে হারাতে বিজেপির হাত ধরতে দ্বিধা করেন নি ৷ আবার পরবর্তী কালে বিজেপিকে প্রধান শত্রু মনে করায় কংগ্রেসকে সমর্থন করেছে বামেরা৷ ফলে  মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বে ইউপিএ সরকারকে বামেদের সমর্থন জানাতে দেখা গিয়েছে ৷ একই কথা প্রযোজ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও ৷ মমতা  বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রীও হয়েছেন আবার কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন৷ অর্থাৎ বাম এবং মমতার বন্ধু বদলানোর রসায়নে কোথায় একটা মিল যেন থেকেই যায়৷  তবে  বাম বা তৃণমূল কংগ্রেসই শুধুমাত্র বন্ধু বদল করে তা তো নয়৷ অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলিও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কখনও কংগ্রেসের জোটসঙ্গী কখনও বা বিজেপির সঙ্গী হয়েছে৷

দিল্লির রাজনীতিতে  কখন যে কোন দল কংগ্রেস বা ইউপিএ-কে সমর্থন করছে আর কখন বিজেপি বা এনডিএ জোটসঙ্গী হয়েছেন তা মনে রাখতে সত্যিই হিমশিম খেতে হয়৷

এবার আবার রাজ্যের দিকে তাকালে দেখা যায় এখানে বামেদের রাজত্বে তখন শাসকদলের কাজে অতিষ্ঠ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপিকে সোচ্চার হতে দেখা যেত৷ এখন যেমন শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে বাম, বিজেপি এবং কংগ্রেসকে সোচ্চার হতে দেখা যায়৷ অর্থাৎ যেন শাসক দল একদিকে আর বাকিরা অন্যদিকে থাকায় তারা যেন বন্ধু হয়ে ওঠে৷ আর স্থান কাল পাত্র ভেদে শাসক বিরোধী সম্পর্ক যে নতুন বন্ধুত্বের সমীকরণ তৈরি করতে পারে তা ক’দিন আগে দিল্লিতে দেখিয়েছেন বাংলার সাংসদরা৷ রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক যাই হোক না কেন দিল্লিতে অধীর চৌধুরীর পাশে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে সৌগত রায় এবং মহম্মদ সেলিমকে৷ লোকসভায় খারাপ আচরণের জন্য কংগ্রেসের অধীর চৌধুরীকে সাসপেন্ড করা নিয়ে কেন্দ্রে শাসক বিজেপির বিরুদ্ধে গলা তুলতে দেখা গেল একসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এবং সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিমকে ৷ অর্থাৎ রাজ্যে যাই ঘটুক না কেন ওই মুহূর্তে তিন বাঙালি সাংসদই যেন বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন৷ তবে এখানেও শেষ নয় শোনা গিয়েছে সংসদে স্মোকিং জোন উঠে যাওয়ায় তা ফেরানোর জন্য একজোট হয়ে আবেদন করতে চলেছেন তিন বাঙালি বিজেপির চন্দন মিত্র, সিপিএমের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সৌগত রায়৷