হে নবীন, ভুলেও কখনও স্বপ্ন দেখো না!

543

নিখিলেশ রায়চৌধুরী, নিউজ এডিটর, kolkata24x7

নিখিলেশ রায়চৌধুরী
নিখিলেশ রায়চৌধুরী

বহু বছর আগে একটা মজার লেখা পড়েছিলাম৷তখনও সোভিয়েত ইউনিয়ন টিঁকে আছে৷ ৪৭ নং শশীভূষণ দে স্ট্রিটের ‘সপ্তাহ’ পত্রিকায় চলছে শিক্ষানবিশির পর্ব৷সেই সময় ‘যুব সমীক্ষা’ বলে একটি পাতলা চটি পত্রিকা বের হত৷তাতে এক পাতায় বেশ কিছু মন্তব্য তুলে দেওয়া হয়েছিল৷ যেমন, ১)‘এখনকার যুবসমাজ যেমন উদ্ধত তেমনই অহংকারী’, ২) ‘এরা ন্যায়নীতির ধার ধারে না’, ৩) ‘গুরুজনদের যে শ্রদ্ধা করতে হয়, এটা এদের বোধশক্তির অগম্য’ ইত্যাদি ইত্যাদি৷হঠাৎ দেখে যে কারও মনে হবে, আরে, এ তো আমাদের সময়ের কথা! চমকটা ছিল পরের পাতায়৷ সেখানে লেখা কোনও মন্তব্য অ্যারিস্টটলের, কোনওটি প্লেটোর, কোনওটি আবার ভার্জিলের৷ তাহলে? অস্যার্থ এটাই, যুব সমাজ বদলায় না৷তার ক্যারেকটার একই রকম৷ঠিক, এ বয়স ‘বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে’, তাই তাদের কচি মাথা চিবিয়ে খাওয়ার অনুপানেরও অভাব হয় না৷পাছে তারা বেগড়বাঁই করে! কারণ, এদের হাজারো দোষ, তবু এ বয়স ‘নতুন কিছু তো করে’৷

ভয়টা সেখানেই৷ পাছে এরা নতুন কিছু করে বসে৷যদি গেয়ে ওঠে সলিল চৌধুরীর সেই গান, ‘ও মা গো মা, অন্য কিছু গল্প বলো,/ এক যে ছিল রাজা-রানি অনেকগুলো,’ কিংবা ‘বলতে পার বড় মানুষ মোটর কেন চড়বে,/ গরিব কেন সেই মোটরের তলায় চাপা পড়বে’? অতএব একরত্তি বয়স থেকেই মনে বিষ ঢোকাও, ভেদাভেদের বিষ, ঘরে-বাইরে, কখনও মোটা দাগে, কখনও মিহি মশলায়৷ওহে যুবক-যুবতীরা, তোমরা ঘৃণা করতে শেখো৷ঘৃণা করতে শেখো ধর্মের নামে, জাতপাতের নামে, রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের নামে, শ্রেণির নামে, কিংবা যে কোনও যে কোনও নামে৷এর বাইরে বের হতে চাও? পৌঁছাতে চাও তূরীয় অবস্থায়? সে বন্দোবস্তও আছে এখন হাজারো মহিমায়৷মাদক থেকে শুরু করে আইডিয়ার চোলাই অদ্রক, সঙ্গে নানা ব্র্যান্ডের নিমক-গোলমরিচ৷এসো, এসো, টোপ গিলে ফেল!

youth1খুব মাথা খাটিয়ে জব্বর এক গোলকধাঁধা বানিয়েছি আমরা৷ পালাবে কোথায়? ভাবছ, এদিকে না হলে ওইদিকে পাব বের হওয়ার পথ৷নাঃ৷যেদিকেও যাও না কেন, শেষ পর্যন্ত তোমাকে পড়তে হবে আমাদেরই কোলে৷হোঃ হোঃ হোঃ৷তোমরা কি দেখেও দেখো না? কিছু দিন আগেই না জানা গেল, আমেরিকার মাদক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বা ডিইএ-র যিনি প্রধানা, তাঁকেই মত্ত যতিহীন হুল্লোড় করার যাবতীয় ব্যবস্থা করে দিয়েছিল কলম্বিয়ার মাদক মাফিয়ারা৷না, আমরা পড়ি, জানি, জানার এখন তো লেখাজোখা নেই৷স্মার্টফোন, আইফোন, হাজারো প্রণালী৷তাও গোলকধাঁধা থেকে বের হওয়ার পথ মেলে না৷ঘুরেফিরে আবারও হতাশা আর ক্লান্তির বোঝা ভারী হয়, কফি হাউস-মলের আড্ডাও দিতে পারে না তৃপ্তির সন্ধান৷অতঃপর? ফিসফিসিয়ে ডাক দেয় হোয়াইট পাউডার, ব্রাউন সুগার, কিংবা ‘চেরি’৷সেই আহ্বানে সাড়া না দিলেই তুমি ‘আউটকাস্ট’৷

হে তারুণ্য, তোমাকে আমরা ভাবতে দেব না৷ তোমাদের ভাবনার গোড়াতেই তাই নানা ধরনের সার ঢালার জন্য আমরা সদাসর্বদা প্রস্তুত আছি৷হয় তুমি হাউয়ের মতো জ্বলে-পুড়ে খাক হয়ে যাও, নয়তো হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালার সুরে বাধ্য ইঁদুরের মতো ঢুকে পড়ো আমাদের সাজানো-গোছানো কিউবিকলে৷দু তরফেই জ্বালানি আমরা মজুত রেখেছি পর্যাপ্ত পরিমাণে৷এখন নিজেরাই দেখ কী করবে৷

শুধু একটাই অনুরোধ, ওই এপিজে আবদুল কালাম না কে যেন তোমাদের বলেছেন, স্বপ্ন দেখো, স্বপ্ন দেখো, স্বপ্ন দেখো৷ ওই কাজটি যেন ভুলেও ক’রো না!