‘ছোটবেলায় ভাবতাম, ফুচকাওয়ালাকেই বিয়ে করব’

1253

ব্লগ বক সেগমেন্টটাই মনের ঝাঁপি খুলে বকবক করার জন্য। যাদের মনের কথা মন দিয়ে কেউ শুনতে চায় না, তাদের জন্যই এই ব্লগ বক। আজকের সংখ্যায় মনের ঝাঁপি খুলল রূপসা-

দিলওয়ালো কি শহর দিল্লিতে এখন বাস। স্বামী-মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার। কলকাতা ছেড়ে এসেছি বছর পাঁচেক। কলকাতার অনেক ফ্লেভার মিস করি। ছুটির দিনে প্রিন্সেপ ঘাট-মিলেনিয়াম পার্ক। আর পার্কেই বাইরে বসা ফুচকাওয়ালাটাকে। চুরমুর তো শুরুতে চাই, তারপর ফুচকা…কারণ ওটা গুনে খাওয়া যাবেনা। এক সময় ভাবতাম ফুচকাওয়ালাকেই বিয়ে করব। দিনরাত ফুচকা খাব, ওতে কোনও গোনাগুন্তি নেই। কিন্তু ওসব ছোটবেলার ফ্যান্টাসি। এখন ভাবলে আসি পায়।

phuchka

তবে কলকাতার ফুচকা নিয়ে কোনও সমালোচনা শুনব না। কি দারুন টকজল। আবার তার ওপর গন্ধরাজ লেবুগুলোর পিসগুলো যখন ভেসে বেরায় তার টেস্টই আলাদা। দিল্লিতে কি সব টক মিষ্টি চাটনি, ছোলার ডাল সিদ্ধ, টমেটো দিয়ে গোল করে সাজিয়ে রাখে। কিন্তু সেই কলকাতার ব্যাপারটা নেই।

স্কুলে পড়ার সময় আমাদের ছোটবেলায় ফুচকাওয়ালার সঙ্গে গল্প করাটাও ছিল রুটিনের ভিতর। স্কুল শেষ হলেই কাকুর কাছে শালপাতার বাটি হাতে দাঁড়ানো, ঝালে হুশহুাস করা। তাও এন্তার খেয়ে চলা ও শেষে ফাউ ফুচকাটা নিয়ে তবে হত শান্তি। আর ফুচকায় তো মেয়েদের জন্মসিদ্ধ অধিকার। ছেলেরাও যে ফুচকা খায় এটা যেন কিছুতেই মেনে নেওয়া যায়না। আজও আমার বরের ফাউটা আমিই খাই।

phuchka-6

ছোটবেলায় স্কুলের আরেকটা আকর্ষণ ছিল কুল। টোপাকুল। ছোট লাল কুলগুলো বীটলবণ দিয়ে খেতে দারুন লাগত। স্কুলে এক দাদু মাথায় ঝুড়ি করে নিয়ে আসতেন মনে আছে…এগুলো সব ছিল আমাদের টিফিনবেলার সাথী…কিন্তু এখন এখানে দেখি টিফিনে ছোটরা বড়াপাও খায়, মাঞ্চুরিয়ান পাও, নুডলস এসব…সবচেয়ে রাগ হয় ওই বড়াপাওকে দেখে…একটা শুকনো মত পাওয়ের মধ্যে গোল আলুর বড়া আর তার ওপর নারকেল কোরা দিয়ে বানানো একটা ঝাল মশলা ও ভাজা কাঁচালঙ্কা গুঁজে খেতে হয়…কি আনন্দ ওতে কে জানে…।

phuchka-9