‘‘ওরে ঘনিয়ে এল অন্ধকার, চোদ্দো প্রদীপ জ্বালা’’

    1187

    সাধারণত কালীপুজো বা দীপাবলির দু-এক দিন আগেই সারা দেশজুড়ে পালিত হয় ভুত চতুর্দশী৷ যদি ‘তেনারা’ চলে আসেন তাহলে কি হবে? ওরে বাবা! নানা থাক,থাক৷ কোনও ফাঁকফোকর রাখা যাবেনা৷ তাই বাড়িতে বাড়িতে চোদ্দো প্রদীপ জ্বালিয়ে তাদের তুষ্ট কর বাপু৷ তুষ্ট না হলে যদি ঘাড় মোটকে ধরে তখন কি হবে? আর তাই পঞ্জিকা মেনে , তিথি দেখে বাড়িতে বাড়িতে চোদ্দ শাক খেয়ে শুরু হয় ভূত তাড়ানোর উৎসব৷ থুড়ি, ভূত চতুর্দশী৷

    b-roy
    বিজয় রায়

    তবে কি এই ভূত চতুর্দশী?

    ভারতীয় পণ্ডিতদের সংবিধান (পড়ুন, পঞ্জিকা ) অনুযায়ী আশ্বিন মাসের চতুর্দশ তিথিতেই পালিত হয় ভূত চতুর্দশী৷ এই দিন সকলেই পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে যার যার নিজ নিজ বাড়িতে চোদ্দো প্রদীপ জ্বালিয়ে থাকেন৷ সকলের ধারণা এই প্রদীপের শিখা দেখে খুব ভয় পান তেনারা৷ আর তাই কোনও ভাবেই আর কারোর বাড়িতে পা রাখার সাহস হয়না তাদের৷

     

    তবে এই চোদ্দো প্রদীপের আলোয় ভয় পাওয়া ভূতেদের তাড়ানো খুব একটা কঠিন নয়৷ মাত্র কয়েকটা মাটির প্রদীপে তেল ঢাললেই পালিয়ে যায় এরা ৷তবে আমা৩র আপনার চারপাশে এমন সব ভূতেরা আছে তাদের তাড়ানো কিন্তু মোটেই সহজ নয়৷সেই চেষ্টা আপনি যতই করুন৷ নানা, এরা কিছুতেই যাওয়ার নয়৷ এই ভূত কারও লাভ বা ক্ষতি করে কিনা জানা নেই৷ তবে তেনারা যে বহাল তবিয়তে বিরাজমান তা কিন্তু হাড়ে হাড়ে টের পান অনেকেই৷

     

    সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে ভূত-ভবিষ্যতের বাজারে রাজনীতিক ভূতেরা কিন্তু খুব ভয়ংকর৷ এরা আবার সবসময় বেরোয়না৷ মাঝে-মধ্যে এদের দেখা যায়৷ বিশেষ করে ভোটের সময়৷ শোনা যায় এই সকল ভূতেরা সাংবাদিকদের কাছে খুব ভালোবাসার ভূত হয়৷ কোন নেতা কি করল? কোথায় গেল? এই ভূতেরাই সেই সকল খবর জানিয়ে দেয়৷এমন কি নিজ দলের কোনও কোনও নেতার আবার কেচ্ছা-টেচ্ছাও এনারাই চুপি চুপি দিয়ে দেন৷ তবে এই ভূতদের টিকি খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন৷

     

    ভূতেদের দুনিয়ায়, কর্পোরেট ভূতেদের দাপটও কিন্তু সাংঘাতিক৷ এরা বড় বড় অফিস বাড়িগুলোতে ঘুরে বেরায়৷ এদের পাল্লায় পরে কতজন যে বসের কাছে ধমক খেয়েছে তার হিসাব নেই৷  একটা প্রোজেক্টের পুরো কাজটা করে একটু বাইরে চা-টা খেতে গিয়েছেন তো গেলেন৷ব্যাস! তখনই হাজির  হয়ে যান ভূত বাবাজী৷ আর আপনি এসে দেখবেন, গোটা প্রোজেক্টটাই আপনার মেশিন থেকে হাওয়া৷ কোথায় যে গেল তা আপনি তন্ন তন্ন করেও খুঁজে পাবেন না৷আর সিসি টিভির ক্যামেরায় ? কি যে বলেন , ক্যামেরায় আবার ভূত ধরা পরে নাকি?

     

    রাজনীতির ময়দানই হোক বা কোনও কর্পোরেট অফিস৷ ভূতেদের রাজত্ব সর্বোত্র৷ তাহলে খেলার ময়দানই বা বাদ যায় কেন? তবে খেলার ময়দানে তেনাদের ভূমিকা বিশেষ করে দেখা যায় কোনও টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে৷ আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে ম্যাচ শুরুর আগে টিম নির্বাচনের আগে৷  ধরুন কোনও ম্যাচের আগে কোনও খেলোয়াড় একদম কনফার্ম যে সে দলে আছে৷ কিন্তু চুড়ান্ত দল ঘোষণার পর সে জানতে পারল, প্রথম একাদশে নাম বাদ পড়েছে তাঁর৷ কিন্তু এই কলকাঠিটি নাড়ল? শত খোঁজ খবর নিয়েও জানা যায়না তার নাম৷ আর তাই কলকাঠিটি কোনও ভূতবাবাজীর কারসাজী বলেই মেনে নিতে হয় ওই খেলোয়াড়কে৷