প্যারিস হামলার এক বছর

924
pic
সৌমেন শীল

২০১৫ সালের ১৪ই নভেম্বর বিকেলে কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসে বসে আছে দুই কলেজ পড়ুয়া। আলোচনা করছে প্যারিস হামলা নিয়ে। এমন সময় ওদের কাছে এল বছর ৭০এর এক বৃদ্ধ। নমস্কার জানিয়ে সে বলল, “আমি মইদুল। আমার এক বন্ধু প্যারিসে থাকে। অনেকদিন কোনও খবর নেই। তোমরা বলতে পারবে ও কেমন আছে?”
ছেলে: Indian Embassy বলছে সবাই ভালো আছে। তবুও দরকার পরলে ওদের ফোন করতে।
বৃদ্ধ: একবার ফোন করবে বাবা। অনেক দিন কোনও খবর নাই। কালকের ঘটনার পর থেকে মনটা খুব খারাপ করতাসে।
ছেলেটির ফোন থেকে ভারত ও বাংলাদেশের দূতাবাসে ফোন করেও কিছু জানা গেল না বৃদ্ধের প্যারিসবাসী বন্ধুর বিষয়ে।
এর মধ্যে মাথায় টুপি পরা একজন বেশ বয়স্ক লোক এসে আগের লোকটিকে দেখে বললেন, “আরে মইদুল। কলকাতায় কবে এলে?”
প্রথম বৃদ্ধ: একটু আগেই আইসি। নিখিলেশের খোজ করতে এই পূরান আড্ডার জায়গায় আইসা পরসি।
দ্বিতীয় বৃদ্ধ: আমিও তো ওর খোজেই এসেছি। কোথায় আর যাবো? সবাই হারিয়ে গেলেও এই জায়গাটা শুধু আছে।
মেয়ে: আপনি কলকাতায় থাকেন না?(প্রথম বৃদ্ধকে উদ্দেশ্য করে)
দ্বিতীয় বৃদ্ধ: ও আগে কলকাতায় থাকতো। এখানের একটা কাগজের সাংবাদিক ছিল। পরে ঢাকায় চলে গিয়েছিল।
ছেলে: আপনারা তিনজন খুব ভালো বন্ধু ছিলেন?
প্রথম বৃদ্ধ: তিন জন!!! কে কে?
ছেলে: এই আপনার দু’জন আর ওই নিখিলেশ।
দ্বিতীয় বৃদ্ধ: (খানিক হেসে) আমরা সাত বন্ধু ছিলাম। আমি, মইদুল, নিখিলেশ সান্যাল, গোয়ালিজ ডি’সুজা, অমল, সুজাতা আর রমা রায়।
মেয়ে: বাকিরা সব কোথায়?

দ্বিতীয় বৃদ্ধ: এই মইদুল আর নিখিলেশ কলকাতা ছেড়ে যাওয়ার পর ওদের আর কোনও খবর পায়নি। বাকিরা কলকাতাতেই আছে। একসময় আমরা রোজ বিকেল থেকে সন্ধে অবধি এখানে আড্ডা মারতাম। মইদুল এসে কি খবর লিখেছে সেটা পড়ত। নিখিলেশ আর্ট কলেজের ছাত্র ছিল। বিজ্ঞাপনের ছবি আঁকত। সেই ছবি আঁকতেই চলে গিয়েছিল ছবির শহরে। গোয়ালিজ ডি’সুজা গ্র্যান্ড হোটেলে গীটার বাজাতো। অমল কবিতা লিখত আর এসে আমাদের শোনাতো। কিছু না বুঝলেও ডিসুজা মন দিয়ে শুনত অমলের লেখা বাংলা কবিতা। কিন্তু, অমলের একটা কবিতাও কোনোদিন কোথাও ছাপা হয়নি। সুজাতা এখন খুব বড়লোকের বউ। বিশাল ব্যাপার। অফিসের অনুষ্ঠানে নাটকে অভিনয় করত রমা রায়। প্রেমে ধোকা খেয়ে এখন সে পাগলা গারদে আছে।