স্বপ্ন সিভিল সার্ভিস? প্রস্তুতি এখন থেকেই

1625
প্রতীকী ছবি

কলকাতা২৪x৭, ক্যাম্পাস ডেস্ক: সেই কোন ফেলে আসা যুগে লর্ড কর্নওয়ালিসের হাত ধরে ভারতে সিভিল সার্ভিসের সূচনা। বেশ কিছুটা সময় পার করে লর্ড ডালহৌসি এসে সেটার উপর ছুরিকাঁচি চালিয়ে পুরো সিভিল সার্ভিসের খোলনলচে পাল্টে ফেললেন। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। ভারত স্বাধীন হয়েছে। পরিবর্তন হয়েছে ভারতীয় সিভিল সার্ভিস নিয়োগের পরীক্ষা পদ্ধতিরও।

এখন আর ব্রিটিশ শাসনের মত ইংল্যান্ড গিয়ে এই পরীক্ষা দিতে হয় না। তবে আগের মতই এখনো আমাদের কাছে আকর্ষণীয় রয়ে গেছে ভারত সরকারের এই সেরা পদের চাকরিগুলি। কারণ দুটো। এক সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করলে যে সব পদে চাকরি পাওয়া যায় সেগুলো যথেষ্ট সম্মানের। সঙ্গে সিভিল সার্ভেন্টদের আর্কষণীয় বেতন। যারা সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাশ করলে তাদের অনেকেরই স্বপ্ন রয়েছে ভবিষ্যতে এই পরীক্ষায় বসার। কিন্তু সঙ্গে ভয়ও রয়েছে পারবো তো! পাশাপাশি রয়েছে এক মিথ “বাংলা থেকে সিভিল সার্ভিস হয় না তেমন একটা”।

কি বলছো বস হয় না! যে বা যারা এরকম বলছে তাদের জানিয়ে দাও প্রথম ভারতীয় সিভিল সার্ভেন্ট এক বাঙালি। এই বাংলার ছেলে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৮৬৩ সালেই তিনি সিভিল সার্ভিস ক্র্যাক করেছিলেন৷ আর এক বাঙালি নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস তো ICS পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। যদিও উনি তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের বিরোধিতা করে চাকুরী গ্রহণ করেননি।

তাই লোকের কথায় কান না দিয়ে টুক করে বুঝে নিতে হবে What to do? And what not? প্রথমেই যেটা করণীয় সেটা হল উচ্চমাধ্যমিকের পরই শুরু হোক ভারতীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি। তাই চটপট চোখ বুলিয়ে নিতে হবে পরীক্ষায় বসার জন্য কী কী লাগে? কেমনই বা হবে প্রস্তুতি পর্ব!

প্রতীকী ছবি

ভারতীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে IAS, IPS, IFS, IRS(IT) প্রভৃতি সার্ভিসে নিয়োগ করা হয়।

এই সবকটির পরীক্ষার জন্য একটি মাত্র প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়। যেটি ৪০০ নম্বরের৷ পেপার ১- জেনারেল স্টাডিজ এবং পেপার২- এপ্টিটিউড টেস্ট৷ প্রতিটি পেপার ২০০ নম্বরের৷ প্রতিটি পেপারের জন্য ২ ঘন্টা সময় দেওয়া হয়৷
প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট কাট অফ মার্কস থাকে এই প্রিলিমিনারি পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য৷ পেপার-২ অর্থাৎ অ্যাপ্টিটিউড টেস্টের নম্বর মেরিট লিস্ট যোগ হয় না৷ কিন্তু সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রিলিমিনারি পাশ করতে হলে এই পেপারটিতে ৩৩ শতাংশ নম্বর পাওয়া বাধ্যতামূলক৷

সিভিল সার্ভিসের দ্বিতীয় ধাপ, মেইনস পরীক্ষা

প্রিলিমিনারিতে পাশ করা চাকরীপ্রার্থীদের মেইনস পরীক্ষায় বসতে হয়। মোট ২০০০ নম্বরের হয় এই পরীক্ষা।

নম্বর বিভাজন- দুটি ভাষা পেপার
একটি ঐচ্ছিক এবং একটি ইংরেজি। মোট নম্বর ৩০০+৩০০
এসে পেপার- ২৫০ নম্বর

চারটি জেনারেল স্টাডিজ পেপার – মোট নম্বর ২৫০x৪= ১০০০

চারটি অপশনাল পেপার
২x ২৫০= মোট নম্বর ৫০০
অর্থাৎ মোট ২৩৫০ নম্বরের লিখিত মেইনস পরীক্ষা।

এবং মেইনস পরীক্ষায় পাশ করলে ২৭৫ নম্বরের পার্সোনালিটি টেস্ট।

জেনারেল স্টাডিজের চারটি পেপারে যে সব বিষয়ের উপর প্রশ্ন আসে-
জিএস পেপার ১
ভারতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং বিশ্ব ও সমাজের ভূগোল

জিএস পেপার -২
শাসন, সংবিধান, রাষ্ট্র, সামাজিক বিচার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক

জিএস পেপার-৩
প্রযুক্তিবিদ্যা, অর্থনৈতিক বিকাশ, জীববৈচিত্র্য, নিরাপত্তা ও বিপর্যয় মোকাবিলা

জিএস পেপার-৪
নীতিতত্ত্ব, ও স্বাভাবিক ক্ষমতা

শিক্ষাগত যোগ্যতা – গ্রাজুয়েট হলেই এই পরীক্ষায় বসা যায়।

প্রয়োজনীয় বই

১- প্রতিযোগিতা দর্পণের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিন
২- রোজের সংবাদপত্র
৩- ইতিহাস – রেড্ডি (টাটা ম্যাগ্রোহিল)
৪- ভূগোল- হোসেন মাজিদ
৪- ভারতের সংবিধান- ডি ডি বাসু
৫- জি আই- আর এস অগরওয়াল
৬- ভারতের অর্তনীতি- রমেশ সিং, সঞ্জীব বর্মা,

কলকাতা এবং দিল্লির কোচিং সেন্টার

১- রাওজ (দিল্লি)
২- প্যারামাউন্ট
৩- রাইস(কলকাতা, রাজ্যের অন্যান্য জেলায়)
৪- অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন।
এছাড়াও কলকাতায় অনেক শিক্ষক বিষয় অনুসারে প্রতিমাসে ফি নিয়ে পড়িয়ে থাকেন৷ সেই বিষয়ে আমরা আলোচনা করব পরের ক্যাম্পাসে৷

সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি একটি সময় সাপেক্ষ ব্যপার। তাই নিজেকে IAS কিংবা IPS পদে দেখতে হলে ধর্য্যধরে পড়াশুনো করতে হবে তবেই সাফল্য আসবে।