প্রায় দু’মাস গরমের ছুটিকে যেমনভাবে দেখছে বাংলার জেন-Y

765
ছবি প্রতীকী

শেখর দুবে: কলেজ স্কোয়ারে আড্ডা চলছিল পাঁচ বন্ধুতে৷ ঐতৃকা, স্বর্ণাভ, ইপ্সিতা, অনিরুদ্ধ আর সৌগত৷ মাঝে ঢুকে পড়েছিলাম আমি৷ আড্ডার বিষয়টাও চমকপ্রদ৷ পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিচালিত স্কুলগুলিতে অতিরিক্ত ৩৯ দিন গরমের ছুটির কী কোনও প্রয়োজন ছিল? প্রসঙ্গটা প্রথম উত্থাপন করে ইপ্সিতা৷

ইপ্সিতা: শুনেছিস তো প্রায় দু’মাস নো স্কুল৷
স্বর্ণাভ: হ্যাঁ শুনেলাম৷ খুব বাজে হল ব্যাপারটা৷
সৌগত: বাজে কেন হবে? যা গরম তাতে স্কুল বন্ধ থাকায় দরকার৷ এই গরমে ছাত্রছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়বে৷ এভাবে পড়া সম্ভব নয়৷
ঐতৃকা: মানেটা কী? অসুস্থ হয়ে পড়বে? তুই আমি যখন পড়েছি তখন গরম পড়তা না বুঝি? তখন আমাদের স্কুল দু২মাস ছুটি থাকত? আমরা পড়াশুনো করিনি? ভোট চলছে তাই কিছু লোককে খুশি করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছ৷

অনিরুদ্ধ: এই তোদের এক সমস্যা তোদের মনোভাবটাই সরকার বা প্রতিষ্ঠান বিরোধী৷ যে দলই ক্ষমতায় থাক তোদের খুশি করতে পারে না৷ ছুটি না দেওয়াতে কোন বাচ্চা অসুস্থ হয়ে গেলে তখন এই তোরাই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতিস৷ বল বলতিস না?
ইপ্সিতা: মানে তুই বলতে চাইছিস গরমের কথা ভেবেই এই ছুটি দেওয়া হয়েছে৷ কী তাই তো? গরম যদি মূল সমস্যা হত তাহলে সকালে স্কুল করলেই পারত৷ রোদ ওঠার আগে ১০টার মধ্যে শেষ৷ এটাই তো হয়ে এসেছে৷
সৌগত: কোনও জিনিস এতদিন চলে আসছে মানে তা সম্পূর্ণ সত্য এটা ধরে নেওয়ার কোনও কারণ নেই৷
ঐতৃকা: তবে কী কারণ আছে শুনি?

অনিরুদ্ধ: অবশ্যই অসুস্থতার কারণ৷ রাজ্য সরকার চায়নি যে ছাত্রছাত্রীরা গরমের কবলে পড়ুক৷
এতক্ষণ চুপচাপ বসেছিল স্বর্ণাভ এবার সে মুখ খোলে৷
স্বর্ণাভ: খারাপ হল৷ দুই মাস টানা ছুটি মানে পড়াশোনার অনেকটাই ক্ষতি। বেসরকারি স্কুল গুলোও তো সামার ভ্যাকেশন দেয়। তারা মর্নিং এ স্কুল করে। এতে গরমের প্রকোপ থেকে বেশ কিছুটা রেহাই মেলে।
ইপ্সিতা: পাশাপাশি একটা জিনিস ভেব দেখ তোরা৷ গ্রামে গঞ্জে অনেক ছাত্রছাত্রী আছে যারা প্রাইভেট টিউশন নিতে পারে না৷ স্কুলের উপরই নির্ভর তাদের শিক্ষা৷ তাদের ভবিষ্যত অন্ধকার হয়ে গেল।
ঐতৃকা: দুমাসের দরকার ছিল না এই প্রথম একমাস হলেই হতো৷ এতোদিন ছুটি থাকার পর সিলেবাস সম্পূর্ণ করা কষ্টের হবে৷ ছোটো ছোটো গরীব শিশুরা মিড ডে মিল থেকে এতদিন বঞ্চিত থাকবে৷ এটাও একটি সমস্যা৷
ইপ্সিতা: একেবারেই৷ অত দীর্ঘ ছুটি মোটেও কাম্য নয়৷ অনেক স্কুলের বাচ্চারা প্রায় সবটুকুই ভুলে যাবে৷ হঠাৎ ছুটি ঘোষণায় বাড়ীর কাজ অবধি দেওয়া হয়নি নেই৷ শেষ কথা এই তুঘলকি সিদ্ধান্তে,, ক্ষতি হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের৷
অনিরুদ্ধ: তবে কী বলতো আমার মনে হয় এতো লম্বা ছুটি থাকবে না৷ গরমটা একটু কমলে ছুটিতেও কাটছাঁট হবে৷
সব শোনার পর অনিরুদ্ধের মত যদিও বা একটু পাল্টায় কিন্তু স্কুল বন্ধ হওয়া নিয়ে নিজের যায়গাতে অনড় থাকে সৌগত৷ রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের পাশা দাঁড়ায় সৌগত৷ অন্যদিকে সৌগতর বাকি বন্ধুরা রাজ্যের স্কুলগলিতে ঘোষণা হওয়া ২মাস ছুটির সরাসরি বিরোধিতা করে৷