‘ইন্ডাস্ট্রিতে Casting Couchয়ের মতো ঘটনা হয়েই থাকে’

1547

একটা প্রচলিত মিথ আছে যে, কোনও ব্যাকগ্রাউণ্ড ছাড়া নাকি মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েরা টলিপাড়ায় বেশি পাত্তা পায় না বা প্রতিযোগিতার ভিড়ে তারা হারিয়ে যায়৷ কিন্তু সেই মিথকে অনেকটাই মিথ্যে প্রমাণ করে প্রথমে ‘মা দূর্গা’, তারপরে ‘চোখের বালি’, ‘দূগ্গা-দূগ্গা’ ও বর্তমানে ‘কে আপন কে পর’ সিরিয়ালে দাপিয়ে অভিনয় করে বহু দর্শকের মন কেড়েছেন আমাদের আজকের অতিথি৷ সকলের পরিচিত চোখেরবালি খ্যাত ‘বিনোদিনী’- তানিয়া গাঙ্গোপাধ্যায়৷ বাংলার প্রায় সবকটি প্রথম সারির বিনোদন চ্যানেলের মেগাতেই লিড বা সেকেণ্ড লিড রোলে পাওয়া যায় তানিয়াকে৷ মধ্যবিত্তের চলতি ধারনা ভেঙে অল্প দিনের মধ্যেই ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করে নিয়েছেন তানিয়া৷

ব্যস্ত সিডিউলের মধ্যেও, নিজের উত্থান, কেরিয়ার, প্রেম,পুজোর প্ল্যান-ফ্যাশন নিয়ে পুজোর আগে Campus-এর বিশেষ সংখ্যায় ‘বিনোদিনী’ তানিয়া গঙ্গোপাধ্যায় অকপট আড্ডা দিলেন তনুজিৎ দাসের সঙ্গে৷
ক্যাম্পাস: শুরুতেই, তোমার এই ব্যস্ত শ্যুটিং সিডিউলের মধ্যে থেকে সময় বার করার জন্য Thank You!
তানিয়া: Welcome! কিন্তু এই সবের আবার কি দরকার ছিল! হা! হা!হা!
ক্যাম্পাস: ইন্ডাস্ট্রিতে দাপিয়ে কাজ করলেও তুমি এখনও New Comerদের মধ্যে একজন, তা কী মনে হচ্ছে কতটা সুযোগ করেছে ইন্ডাস্ট্রিতে New Comerদের জন্য?
তানিয়া: দেখ, এটা অনেকটাই নির্ভর করে Luck-এর উপর৷ আমার ক্ষেত্রেই যেমন ফেসবুকে আমার Profile Pic দেখে ডাক এসেছিল৷ তারপরে এতগুলো সিরিয়াল তো হয়ে গেল৷ আর দেখ সুযোগ মানুষের কাছে খুব কম আসে৷ তাই নতুন যারা ইন্ডাস্ট্রিতে আসছে তাদের অবশ্যই ভাগ্য এবং চেষ্টা থাকলে ইন্ডাস্ট্রি সুযোগ করে দেয়৷
ক্যাম্পাস: যেমন নতুনদের ইন্ডাস্ট্রি সুযোগ দেয় বলছ, তেমনই এই ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কেই আবার Casting Couch-এর মতো বদনামও শোনা যায়৷, প্রত্যক্ষ জীবনে এমন কোনও অভিজ্ঞতা হয়েছে?
তানিয়া: না, সত্যি বলতে কি আমার সঙ্গে হয়নি এমন কিছু৷ তবে এই নয় যে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে Casting Couchয়ের মতো ঘটনা ঘটে না৷ কিন্তু কি জান তো, একটা ছেলে ও একটা মেয়ের মেলামেশার উপরে সেটা নির্ভর করে৷ তুমি কার সঙ্গে, কতটা, কেমন ভাবে মিশবে এটা খুব ম্যাটার করে৷ কেনই বা কেউ সাহস পাবে৷ এর একটা কথা আমার মনে হয়, যদি আমার নিজের পারদর্শিতা থাকে, তবে নিজের থেকেই কাজ আমার কাছে আসবে৷
ক্যাম্পাস: রিল লাইফে অনেক হিরোর সঙ্গেই তো ঘর করলে, তো রিয়েল লাইফে তাদের মধ্যে কাউকে মনে ধরল? আগেই বলছি এই প্রশ্ন কিন্তু তোমার কোনও এক ফ্যানই আমাকে পাঠিয়েছে৷
তানিয়া: যে করেছে তাকে প্রথমেই ধন্যবাদ, আমাকে ফ্যাসাদে ফেলার জন্য হা! হা! Just Joking! আমার ক্ষেত্রে যে এমন হয়নি তা নয়৷ দেখ ১৬-১৮ ঘণ্টা দু-তিন বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করতে করতে একটা বন্ডিং চলেই আসে৷ সেখান থেকেই কেউ দাদা, কেউ বন্ধু ও কেউ খুব ভালো বন্ধু হয়ে যায়৷ কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক প্রেম নয়…
ক্যাম্পাস: বা! খুব ভালো ডিপ্লোম্যাট হতে পারবে তুমি
তানিয়া: So Funny! চেষ্টা করব তাহলে, বলছ?
ক্যাম্পাস: দুটো মেগায় লিড করার পরে এখন সেকেণ্ড লিড করছ, অফারটা পেয়ে মন খারাপ হয়নি?
তানিয়া: সত্যি বলছি, খুব Frহsteded! হয়ে পড়েছিলাম৷ কারণ তখন আমার ফেস দিয়ে প্রোমো হয়, আমি পোস্টারে সবার আগে থাকতাম…যাই হোক সিনিয়র আর্টিস্টরা তখন খুব হেল্প করেছিল৷ মনে আছে একজন বলেছিল যে, লিড মেগা ফেস হয় কিন্তু ক্যারেকটার আর্টিস্ট সিন ক্রিয়েট করে৷ ব্যাস! সব ঠিক হয়ে গেল৷
ক্যাম্পাস: চোখের বালিতে বিনোদিনীর চরিত্রে একটা Dark Side ছিল, আবার তোমার বর্তমান মেগাতেও এমনই একটা Dark চরিত্র আছে, তো কোনটা বেশি প্রিয় বা কাছের?
তানিয়া: যেহেতু আমি রবীন্দ্রনাথের বিশাল ভক্ত এবং চোখের বালি প্রথম মেগা তাই অবশ্যই ‘বিনোদিনী’ এগিয়ে৷
ক্যাম্পাস: শুনলাম তোমার মাকে তো ফোনে বললে রেডি হয়ে থাকতে, নিশ্চই পুজোর শপিং-য়ে যাবে?
তানিয়া: হ্যাঁ! একদমই৷
ক্যাম্পাস: তাহলে আমাদের পাঠকদেরও পুজোর ফ্যাশন, বিউটি টিপস কিছু দাও৷
তানিয়া: একদমই, আসলে আমার কাছে ফ্যাশন মানে যা পরে আমাকে দেখতে ভালো লাগবে এমন ড্রেস কেনা৷ অন্যকে কোনও কিছু পরে দেখতে ভালো লাগছে মানে সেটা আমাকেও ভালো লাগবে এমন নয়৷ আর বিউটি টিপসের ক্ষেত্রে আমি সাধারণত যা করি, প্রচুর জল খাই এবং অবশ্যই পুজো আসার আগে ও চলে গেলে ওয়ার্ক আউট করি৷ কারণ পুজোতে আমি খাওয়ার কোনও নিয়ম মানি না৷
ক্যাম্পাস: এবার তো তোমাকেও মনে হচ্ছে উঠতে হবে, আর বেশিক্ষণ আটকাবো না৷ তোমার ভবিষ্যতের জন্য Campus ও Kolkata24x7- এর পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা৷
তানিয়া: সত্যি আমার খুব ভালো লাগল তোমার সঙ্গে কথা বলে৷ Campus, Kolkata24x7 এবং তোমাদের পাঠকদের পুজোর শুভেচ্ছা৷ খুব ভালো কাটুক তোমাদের সবার পুজো৷ মজা করও, কিন্তু নিরাপদে৷