‘পুজোর প্রেম’ Reliance JIO-র মতো, আগামী তিন মাস ফ্রি

1254
b-roy
বিজয় রায়

ফেসবুক-ট্যুইটারের বাঙালী এখন আর প্রেমের জন্য শুধুমাত্র অষ্টমী পর্যন্ত অপেক্ষা করেনা৷ পরিবর্তনের যুগে দাঁড়িয়ে বাঙালী তরুণরাও ধরণ বদলাচ্ছে প্রেমের ৷আর তাই পুজোর কয়েক মাস আগে থেকেই নিজেদের একটু একটু করে তৈরি করে তাঁরা৷ তবে বিষয়টা ‘এত্তো’ সহজ নয়৷ অনেক নিয়ম আছে৷ পুজোর ঠিক মাস তিনেক আগে থেকে শুরু হয় এই অনুশীলন৷ সকালে জিম৷ বাড়ি ফিরে একটু রূপচর্চা৷ আর মাঝে মধ্যে ফেসবুকে একটা করে ‘স্টেটাস’ ৷ পাশাপাশি সারাক্ষণের ফেসবুকে চ্যাটতো আছেই৷ চলছে একে-তাকে পটানো ৷ প্রথমে শুরুটা হয় ‘HI’ তুলে (মানে ওই আর কি!) ৷ খাওয়া হল? ঘুম হল? এটা-সেটা৷ তবে বুদ্ধিমান তরুণরা প্রথমেই জেনে নেয় ‘বিএফ আছে’? যদিও থাকলে খুব একটা সমস্যা হয়না ৷ বরং না থাকলেই সমস্যা ৷ পরে যদি ‘ঝুলে পরে’! কারণ এই প্রেম তো আবার উত্তম-সুচিত্রার সিনেমার কাহিনী নয়৷ এ হল অনেকটা রিলায়েন্সের জিও সিমের মতো৷ আগামী তিন মাস-এর জন্য(ফ্রি, পরে পয়সা লাগবে)৷ আর তাই পুজোতে একটু ফুর্তি-টুর্তি করে পরে ‘তুম কাহা, হাম কাহা’৷

কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, যাকে পটানোর চেষ্টা হচ্ছে সে কি আদৌ পটেছে৷ নাকি সারাদিনের অফিস করার পর, শুধুই টাইম পাস? আই টি সেক্টরের তরুণীদের আবার পুজোয় ছুটি কম৷ ছুটি নেই মিডিয়ার কর্মীদেরও৷ তাহলে ফেসবুকে আসা ‘চাহেনে ওয়ালাকে’ যদি পছন্দ হয়ে যায়, তাহলে পুজোর কোন সময়টা তার সঙ্গে কাটাবে তা নিয়েও রীতিমতো একটা গবেষণা করতে হয় বঙ্গ তনয়াদের৷ কারণ এই ‘তৎকাল বয়ফ্রেন্ডদের’ পাশাপাশি ‘৩৬৫ দিনের বয় ফ্রেন্ডকেও’ তো সময় দিতে হবে নাকি! এই ‘চাইনিজ প্রেম’ তো বেশিদিনের জন্য নয়৷

তরুণীরাও কিন্তু কম বুদ্ধিমতী নন৷ তারা আবার পুজো পর্যন্ত অপেক্ষা করেনা৷ বরং পুজোর আগেই একবার সামনাসামনি পরখ করে নেয়৷ পরে যদি অন্যরকম বেরোয়৷ তখন তো আর যাকে তাকে ‘পুজোর বয়ফ্রেন্ড’ বানানো যাবেনা! আর তাই পুজোর আগে শহরের কোনও এক ক্যাফে বা রেস্তোরাঁতে গিয়ে একে ওপরকে ভালো করে চিনে নেওয়ার কাজটা সেরে ফেলতে হয়৷ যদি মনে না ধরে তাহলে টিসু দিয়ে মুখ মোছার পরেই টাটা বাইবাই৷ আর যদি ব্যাপারটা একটু গুরুতর হয় তাহলে, ‘আবার কবে দেখা হবে’? লিপস্টিক মাখা ঠোঁটের কোনে হাসির ঝলকে ‘দেখা যাক’ উত্তরে বেশ কিছুদিন চলে ‘প্রাক পুজো প্রেম’ ৷
দেখা তো হল৷ কথা রোজই হয় ৷ এবার ‘পুজোর প্ল্যান’? একটা সময় এই সব প্ল্যান নিয়ে একটা সমস্যা দেখা দিত৷ কিন্তু এখন সেই সব অতীত৷ আধুনিক তরুণ সমাজ আগে ভাগেই গলা জড়িয়ে একটা ছবি ফেসবুকে দিয়ে রাখে৷ নিচে লেখা থাকে AFTER SOOOO LONG DAYS…MEET WITH BESTIES… ফলে কারও আর কিচ্ছুটি বলার নেই৷ পুজোতে ‘বেসটির’ সঙ্গে যেখানে খুশি যাওয়া যেতেই পারে৷ যা খুশি খাওয়া(রেস্তোরাঁয়) যেতে পারে ৷ কিন্তু তাতে একটা সমস্যা থাকে৷ আর তা হল, চাইনিজ প্রেম উপভোগ করতে গিয়ে আবার ৩৬৫ দিনের প্রেম উপেক্ষিত হবেনা তো? ফলে ছেলেই হোক বা মেয়ে৷ সকলেই এই দুই দিক খুব দক্ষতার সঙ্গে সামলে, একটা সামঞ্জস্য রেখে তবেই পুজোর প্রেমে সামিল হয়৷

অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় , মান্ধাতার আমলের মতো দশমীর দিনেই কিন্তু এই প্রেম শেষ হয়না৷ এই প্রেম এখন লক্ষ্মী পুজো ছাড়িয়ে কালী পুজো পর্যন্তও চলে৷ আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা ওই ডিসেম্বর আর জানুয়ারি পর্যন্তও টিকে যায়৷ কারণ পুজোর প্রেমতো আর শুধু মাত্র পুজোতেই আটকে থাকবে তা নয়৷ যদি আরও কিছুদিন চলতে চায়, তাহলে চলুক না…ক্ষতি কি ?