পুজোর ছুটিতে বেড়িয়ে আসুন গ্রিসে

890

ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের একটি রাষ্ট্র গ্রিস। উত্তরে বুলগেরিয়া, ম্যাসিডোনিয়া এবং আলবেনিয়া। পূর্বে তুরস্ক। দক্ষিণে এজিয়ান সাগর আর পশ্চিমে রয়েছে আইওনিয়ান সাগর। ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য গ্রিসের ভূপ্রাকৃতিক সৌন্দর্য নজরকাড়া। অনেকেই মনে করেন, যাঁরা বেড়াতে ভালবাসেন, তাঁদের জীবনে অন্তত একবার গ্রিসে যাওয়া উচিত। গ্রিসের জিডিপির ১৮ শতাংশ আসে পর্যটন ক্ষেত্র থেকে। প্রায় ৯ লাখ মানুষের রুজি রোজগার জড়িয়ে রয়েছে কাজ পর্যটন ক্ষেত্রের সঙ্গে। সাম্প্রতিক চরম অর্থ সংকটের সময়েও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল গ্রিস৷

গ্রিসের মূল আকর্ষণ এখানকার অসাধারণ দ্বীপগুলি। পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে ন্যাক্সস দ্বীপ। ন্যাক্সস দ্বীপের নির্জন ও শান্ত পরিবেশের পাশাপাশি এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য পর্যটক ও দর্শনার্থীদের গভীর ভাবে আকর্ষণ করে। বিশেষত আপনি যদি ফ্যামিলি নিয়ে বেড়াতে ভালবাসেন, তাহলে ন্যাক্সসই আপনার প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত। সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণ করতে যাঁরা ভালোবাসেন তাঁদের কাছে এই দ্বীপটির আবেদনই আলাদা। এই দ্বীপে একাধিক সমুদ্র সৈকত রয়েছে। দ্বীপের প্লাকা বিচটি অত্যন্ত নির্জন ও মনোরম। এজিয়োস জর্জিয়াস বিচে সব সময় ভিড় থাকে। এই সৈকতে অগণিত রেস্তোরাঁ রয়েছে যেখানে বসে দর্শনার্থীরা লাঞ্চ সারতে পারেন সূর্যের আলোয়।

Naxos-5

 এই দ্বীপে যাওয়ার উপযুক্ত সময় জুন। যখন এই দ্বীপের আবহাওয়া না ঠান্ডা না গরম। তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে সে সময়। জুলাই ও অগাস্ট মাসে আবহাওয়া ধীরে ধীরে গরম হতে থাকে এবং সৈকতগুলিতে ভিড় জমে উঠে। তখন দর্শনার্থী ও পর্যটকেরা উইন্ডসার্ফিং, নৌকা চালানো ও পাল তোলা নৌকা ভ্রমণে মেতে উঠেন। উত্তেজনাপূর্ণ ওয়াটার রাইড কিংবা অশ্বারোহণও পছন্দ করেন অনেকে। অভিজ্ঞ -অনভিজ্ঞ নির্বিশেষে সবাই এসব কর্মকান্ডে অংশ নেন।

Naxos-3

‘সেইলার’ বা নৌকা চালকেরা কেভ ট্যুর বা গুহা ভ্রমণে বের হন। নৌকার সঙ্গে ছুটতে থাকা ডলফিনদের সাঁতার কাটা তাঁরা উপভোগ করেন। যাঁরা সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন তাঁরা উন্মুক্ত স্থানে গাছপালা ঘেরা স্থানে বিশাল পর্দার সিনেমা উপভোগের সুযোগ পাবেন।

ন্যাক্সস দ্বীপে একটি অ্যাকোয়া পার্কও রয়েছে। এই ছোট্ট ওয়ার্টার পার্কে দু’টি জলাশয় এবং ৪ টি স্লাইড রয়েছে। বাচ্চারা এসব জলাশয়ে দাপাদাপি করলেও বিপদের কোনও আশংকা নেই। কারণ জলাশয়গুলো লাইফগার্ড দ্বারা তত্ত্বাবধানকৃত। বড়রা চলে যেতে পারেন পার্কের নিজস্ব স্পাতে।

 Naxos-2

 

রাতে দ্বীপের অধিকাংশ ক্যাফে খোলা থাকে। বড় পর্দায় ফুটবল খেলা দেখতে দেখতে দর্শনার্থী ও পর্যটকেরা ড্রিংকস উপভোগ করতে পারেন। দ্বীপটি ছোট্ট হওয়ায় যে কেউ একটি গাড়ি কিংবা স্কুটার ভাড়া করে দ্বীপটি ঘুরে দেখতে পারেন। দ্বীপের কেন্দ্রস্থল হচ্ছে ‘চোরা’ এলাকা। এখানে আছে ফিশ রেস্টুরেন্ট। চোরাতে খাবার থেকে স্যুভেনিয়র বা রঙিন স্যান্ডেল থেকে দামী পাথর সবই পাওয়া যায়। এখানে আছে ‘পোরটারা’ বা ‘মহাদ্বার’ নামে একটি অনন্য প্রাচীন সৌধ। এর প্রবেশদ্বার মার্বেলে পাথরে তৈরি, যা সূর্যদেবতা অ্যাপোলোকে নিবেদিত। পর্যটকেরা এই বিশাল দরজা থেকে অস্তগামী সূর্যকে লেন্সবন্দি করেন। ন্যাস্কস দ্বীপের খাবারের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের খাবারের যথেষ্ট মিল রয়েছে।

Naxos-1