বাটার চিকেন থেকে উইক এন্ডে বেরানো…Office প্রেম সুপারহিট!

856

jeetহাল্কা-ফুল্কা অফিসে ফ্লার্ট করলে নাকি মন ভাল থাকে৷ বেড়ে ওঠে কাজ করার enthusiasm-ও৷ তবে এগুলো অবশ্যই করা উচিৎ বস ও কিছু সহকর্মীর নজরদারি এড়িয়ে৷ তা না হলেই ক্যাচ-কট-কট৷ এইসব রিস্ক নিয়েও যদি সেই লক্স কাটা চুলের আঁড়াল থেকে চোখের ভাষায় অবিরাম কথা হতে থাকে, ক্ষতি কী? নজর এড়িয়ে নজরানা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তথ্য ফাঁস করলেন শুভপম সাহা৷ 

‘Good Morning. Maa ajke butter-chicken baniyeche. Lunch-time-e Cafeteria te chole esho. Eksonge khabo. Ok. Bye. C ya at ofc!

বৃষ্টি ঘুম থেকে উঠেই হোয়াটসঅ্যাপে ইন্দ্রকে লাঞ্চের ইনভিটেশন পাঠিয়ে দিল৷  বেশ কিছুদিন হল ইন্দ্রর অফিসে জয়েন করেছে বৃষ্টি৷ টুকটাক কথার্বাতা থেকে কয়েকদিনের মধ্যেই সম্পর্কটা বেশ গাঢ় হয়ে গেছে৷ আইনক্সেও কয়েকবার সিনেমা দেখেছে দু’জনে৷তাহলে ইন্দ্র আর বৃষ্টি কী প্রেম করছে? অফিসের একাংশের ধারণা ‘বৃষ্টি’তে ভিজে ইন্দ্র তলায়-তলায় প্রেমসাগরে ডুব দিয়েছে৷ নির্ঘাৎ প্রেম করছে ওরা৷ আচ্ছা একসঙ্গে লাঞ্চ করলে আর সিনেমা দেখা মানেই কী প্রেম? মহা মুশ্কিল তো !!!! কী যাতা ব্যাপার৷

ইন্দ্র-বৃষ্টির মতো চরিত্র সব অফিসেই কম-বেশি দেখা যায়৷ সরকারি থেকে বেসরকারি৷ প্রেম-প্রেম ভাব রোম্যান্সের অভাব৷ ‘অফিস-রোম্যান্স’ এই শব্দটা নিজেই দারুণ রোম্যান্টিক৷ এর অনেকগুলো রঙ রয়েছে৷ রামধণুর মতোই মনের আকাশ জুড়ে থাকে৷ বর্নান্ধরা যদিও একটা বা দু’টো রঙই দেখতে পায়৷ অফিসে কেউ রোম্যান্স করুক বা না-করুক৷ দু’টো বিষয় ঘটবেই৷

 অপপ্রচারের মাধ্যমে সেটাকে প্রেম বলে চালানো হবে৷

একটা সম্পর্ককে খামোকা নষ্ট করা হবে৷ হাই-হ্যালো থেকে যে সম্পর্ক একেবারে হুকাবার ও নাইট-ক্লাবে চলে গেছিল, কলিগদের আওয়াজ খেয়ে সেটা আবার হাই-হ্যালোতে চলে আসতে পারে৷মানে এককথায় ইউনিভার্সিটি থেকে নার্সারিতে ফিরে আসবেন আপনি৷

অনেকেই অফিস রোম্যান্সে বিস্তর ঘেঁটে যায় যে আদৌ অফিসে প্রেম করা উচিৎ কী উচিৎ না? আরে বাবা, অফিসে কেউ যদি প্রেম চালায় ক্ষতি কী৷ অফিসের সম্পত্তিতো নষ্ট করছে না৷ ডেস্কটপ বা কফি-মেশিন তো ভাঙছে না পোলাপানরা৷তবে জানেন তো অফিসে একরোখা রোম্যান্স করাটা ভীষণ রকমের বোরিং এবং অবশ্যই অস্বাস্থ্যকর৷ একজনের সঙ্গে ঘণিষ্ট হলেই অবধারিক কেস খাওয়ার ব্যাপার৷ এরচেয়ে বরণ একের বদলে দুই বা তিনজনকে নিয়ে খেলা চালিয়ে যান৷ কলিগরা আপনার পিছনে লাগছে?  লাগতে দিন !!! লাগতে দিন !!! এবার আপনার পালা৷ ওদের কে ব্লেন্ডারে ঘাঁটার মতো ঘেঁটে দিন৷ একের সঙ্গে যে ব্যবহার করেন সেটা তিনের সঙ্গে অ্যাপ্লাই করলেই ম্যাচ আপনার পকেটে৷‘ভাই আমার বন্ধু আমার’ বাণী ছাড়া কলিগরাও পুরো ঘেঁটে ঘ…,চমকে চ… হয়ে যাবে৷বুঝতেই তো পারবে না হৃদয় কাকে দিয়েছেন? আদৌ দিয়েছেন কী না? অবশেষে বলতে বাধ্য হবে,‘ধুর! যাকে দেখে তাঁকেই লাইন মারে৷নতুন কেউ এলেই হল৷যাতা একেবারে৷’ মশাই, ট্যাগ না ঝুললে আপনি যে ব্র্যান্ডেড হতে পারবেন না৷

অফিসে আট থেকে দশ ঘণ্টা থাকবেন আপনি, আপনার মনের মানুষ ও কলিগরা৷ সত্যিই যদি মনে হয় অফিসের কোনও একজনকে romance1ছাড়া আপনার লাইফটা জাস্ট ইমপসিবল, তাহলে তাঁর সঙ্গে সেই ব্যাপারটা বাড়ি গিয়ে চালান না৷ তখনতো আর কলিগদের হেঙ্গাম আর বসের সন্দেহ পোহাতে হবে না আপনাকে৷হয়ে গেল সমস্যার সমাধান৷তাই প্রেম বাড়িতে আর ফ্লার্টিংটা অফিসেই করুন৷আজকাল কাজের চাপে শরীর-স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা হয়েই থাকে৷ফ্লার্টিং তো অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর৷কোলেস্টেরেল ছাড়া, ফ্যাট ফ্রি অত্যন্ত সুস্বাদু একটা ডেজার্ট৷ চেখে না-দেখলেই মিস৷

আর দু’জনের ডিপার্টমেন্ট যদি আলাদা হয় তাহলে সোনায় সোহাগা৷ছুটিজনিত সমস্যাও পোহাতে হবে না৷উইকেন্ডে একসঙ্গে বেরিয়ে পডুন৷গুলি মারুন অফিস৷দয়া করে ডেডলাইন-টার্গেট ভুলে যান৷ বেরোতে যাওয়ার আগে কানে-কানে শুধু তাঁকে বলে দিন- ‘Mere saath jab weekend bitayegi, Wo nazaare tu bhool na paayegi. Sakhi saheli ko sabko bateyegi,Ek baari dekh legi na, to tu pagal ho jayegi’ পার্টনার বুদ্ধিমতী হলে একটা স্মাইলি অবধারিত পাবেনই পাবেন৷আর ডিপার্টমেন্ট এক হলে অফিসের আগে-পরে রোম্যান্সটা করে নিন৷ ইচ্ছে থাকলে আটকায় কে? তাই না?

অফিস রোম্যান্স মানে অফিসেরই কারোর সঙ্গে প্রেমে আটকে থাকা নয়৷এখানেই টুইস্ট৷ সিকিওরিটি স্টাফ থেকে কলিগ, অফিসের কম্পিউটার থেকে পেন৷ প্রতিটা জিনিসকে ভালোবাসতে শুরু করুন৷ যে ডেস্ক নোংরা করছে তাঁকে  সোজাসুজি বলুন, ভাইটু এটা ধাপার মাঠ নয়৷ আপনি যদি প্রকৃত রোম্যান্টিক হয়ে থাকেন তাহলে আপনার ব্যবহার থেকে শুরু করে কাজ সবেতেই রোম্যান্স উপচে পড়বে৷ কাজটা ভালো করার জন্য কলিগদের সঙ্গে একটু-আধটু ফ্লার্ট করাই যায়৷ মন ভালো থাকলেই সব ভালো ৷বসের ধ্যাতানি৷ এমনকী, চাকরি যাওয়ার উপদ্রপ৷

তাই মন ভালো রাখতে হলে ‘ফিল গুড ফ্যাক্টর’ থাকা লাইফে মাস্ট৷ অফিস পলিটিক্সের থেকে অফিস রোম্যান্স অনেক ভালো৷পলিটিক্যালি আনকারেক্ট হয়েও কিন্তু দিব্যি রোম্যান্টিক হওয়া যায়৷তাহলে ইন্দ্র আর বৃষ্টি কী প্রেম করছে? আরে সেটাতো আপনারাই বলবেন৷কারণ ইন্দ্র আর বৃষ্টি তো আপনিই৷আপনাদের মনের কথা বাকিরা শুধু আন্দাজই করতে পারবে৷আর আপনারা চালিয়ে যান৷