৯/১১-তেই বিশ্বজয় করেছিলেন বিবেকানন্দ

1284
pic
-সৌমেন শীল

ঊনবিংশ শতকের শেষার্ধে যে ক’জন অসামান্য পুরুষ আপনার জীবনদীপ জ্বালিয়ে নবজাগরণের মহোৎসব করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ১৮৬৩ সালের ১২ই জানুয়ারি উত্তর কলকাতার সিমলার দত্ত পরিবারে যে শিশুটির জন্ম হয়েছিল সেই বিবেকনন্দ। তাঁর আসল নাম এবং বাল্য জীবনের নামের সঙ্গে আমরা সকলেই পরিচিত।

এই মুহূর্তে যখন সকল বিশ্ববাসী ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার দেড় দশক পূর্তি নিয়ে মগ্ন। ঠিক সেই সময়েই ১২৩ বছর পুরণ হবে বাংলার বিলের বিশ্বজয়ের। ১৮৯৩ সালের ওই ১১ই সেপ্টেম্বরেই আমেরিকার শিকাগো শহরে ধর্ম সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছিলেন ভারতের নরেন্দ্রনাথ দত্ত তথা স্বামী বিবেকানন্দ। সভায় বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, “হে আমার আমেরিকাবাসী ভগ্নি ও ভাইয়েরা।” এই উক্তিটি স্কুলে রচনা বইয়ের মাধ্যমে সকলেরই জানা রয়েছে। একইসঙ্গে সেদিন অন্য একটি অমোঘ উক্তি করেছিলেন এই বঙ্গতনয়। তিনি বলেছিলেন, “আমি বিশ্ব ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি, যে সাগর পেরিয়ে মার্কিন মুলুকে এসেছে বক্তব্য রাখতে।” ভারতীয়রা এই বক্তব্য সম্পর্কে অবগত না হলেও মার্কিন মুলুকের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের পড়ুয়ারা অনেকেই বিষয়টি জানেন। শুধু তাই নয় শিকাগোর সেই ধর্ম সম্মেলণে অংশ নিতেও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল ভারতের তথা হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধিকে। বিভিন্ন আর্কাইভ থেকে জানা যায়, ‘গেরুয়া বস্ত্রের নরেন্দ্রনাথকে ধর্ম সম্মেলণে বক্তব্য রাখতে বাধা দিয়েছিলেন আয়োজকেরা। গুণবিচার করার আগে দর্শনেই বাদ পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় ওই দেশের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ধর্ম সম্মেলনের আয়োজকদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন, “ভারত থেকে আগত এই ছেলেটির যা জ্ঞান আছে তা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অধ্যাপকদের জ্ঞান একত্রিত করলেও কম পড়বে।” সেই চিঠির দৌলতেই ধর্মসভায় বক্তৃতা করার সুযোগ পেয়েছিলেন বিবেকানন্দ।’ বাকিটা ইতিহাস।